রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।
‘বেআইনি নির্মাণ’ নিয়ে তর্কাতর্কি থেকে উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মণিরামপুর বালিঘাটের বাসিন্দা, অশীতিপর বৃদ্ধ তুলসী অধিকারীর বুকে স্থানীয় তৃণমূল পুরপ্রতিনিধি তথা আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের লাথি মারার অভিযোগ ও তার জেরে বৃদ্ধের মৃত্যু ঘিরে রবিবার থেকে উত্তপ্ত এলাকা। ওই রাতেই খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হন পুরপ্রতিনিধি। সোমবার তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হলে সেখানে ধুন্ধুমার বেধে যায়। আইনজীবীদের নিজেদের মধ্যে বিবাদ থেকে বিচারকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিক ও পুলিশের উপরেও চড়াও হন আইনজীবীদের একাংশ। এক মহিলা সাংবাদিকের হাত মুচড়ে দেওয়া, কয়েক জন সাংবাদিককে আদালত থেকে বার করে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। সন্ধ্যায় ভারপ্রাপ্ত এসিজেএম আফসান নওয়াজ ওয়ারসি অভিযুক্তকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
যে বেআইনি নির্মাণ ঘিরে এত কাণ্ড, সেটির কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পুরসভা। পুরপ্রধান তথা আইনজীবী মলয় ঘোষ বলেন, ‘‘বৃদ্ধের পরিবারের অভিযোগ পেয়েই সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে ডাকা হয়েছে ওই নির্মাণকারীদের। এর পরে ওই পুরপ্রতিনিধির পক্ষপাতিত্ব করাটাই আইনানুগ নয়। পুর আইন মেনে পদক্ষেপ করা হবে।’’ বৃদ্ধের পরিবার জানায়, ওই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে প্রথমে রবীন্দ্রনাথকেই জানিয়েছিলেন তাঁরা। তুলসীর পুত্রবধূ পারমিতা বলেন, ‘‘প্রথম থেকেই পক্ষপাতিত্ব দেখে বাধ্য হয়ে পুরসভায় জানিয়েছিলাম। আইনজীবী হওয়ায় পুরপ্রতিনিধি আইনি ভয় দেখিয়ে হম্বিতম্বি করেন, স্বামীকে মারেন। শ্বশুরমশাই মারা গেলেন ওঁর জন্যই।’’
এ দিন দুপুর ২টো নাগাদ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে পুলিশের গাড়ি ব্যারাকপুর আদালত চত্বরে পৌঁছয়। তার আগে থেকেই আদালতের প্রবেশপথ আটকে ভিড় করেছিলেন আইনজীবীরা। রবীন্দ্রনাথকে গাড়ি থেকে নামানোর সময়ে তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে কার্যত ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন আইনজীবীদের একাংশ। তখন সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। পুলিশকর্মীরা কোনও রকমে রবীন্দ্রনাথকে কোর্টের লক-আপে ঢোকান। সেখান থেকে তাঁকে এসিজেএমের এজলাসে হাজির করানো হয়। আদালত চত্বরে ও কোর্ট রুমের বাইরে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ব্যারাকপুর আদালত বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘‘তুলসী অধিকারী আমার কলার ধরেছিলেন। তর্কাতর্কি, ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। লাথি মারা হয়নি। সৌমেন মজুমদার নামে এক জন সাক্ষী রয়েছেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে পারেন। এটা খুনের মামলা নয়। যে কোনও শর্তে আমি জামিন চাইছি। যখন ডাকা হবে, আমি আসব।’’ বাকি আইনজীবীদের বক্তব্যও শোনেন বিচারক। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বিচারক ধৃতের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিলে আইনজীবীদের একাংশ তাঁর ঘরের সামনে গিয়ে চিৎকার শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ (১), ১১৫(২), ১২৬(২) এবং ৩৫১(২) ধারায় হুমকি, খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংহের নেতৃত্বে আদালতের সামনে বিক্ষোভ চলে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলেও চিড়িয়ামোড়ে কিছু ক্ষণ পথ অবরোধ হয়। আদালত থেকে রবীন্দ্রনাথকে বার করার সময়েও হট্টগোল হয়। রবীন্দ্রনাথের পরিবার জানিয়েছে, সম্প্রতি স্ত্রী-বিয়োগের কারণে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত তিনি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে