স্কুলে ঢুকে মার প্রধান শিক্ষককে, অভিযুক্ত সিপিএম নেত্রী

মিড ডে মিলের রান্না নিয়ে বিবাদের জেরে স্কুলে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠল সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্যা-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে। ভাঙা হল উনুন। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে কুলতলি রাধাবল্লভপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আহত শিক্ষককে জামতলা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। পরে তিনি কুলতলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। কারও নির্দিষ্ট কারও নাম নেই সেখানে।

Advertisement

দিলীপ নস্কর

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০১৫ ০১:৫৮
Share:

প্রহৃত মোহন মাঝি। —নিজস্ব চিত্র।

মিড ডে মিলের রান্না নিয়ে বিবাদের জেরে স্কুলে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠল সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্যা-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে। ভাঙা হল উনুন। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে কুলতলি রাধাবল্লভপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আহত শিক্ষককে জামতলা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। পরে তিনি কুলতলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। কারও নির্দিষ্ট কারও নাম নেই সেখানে।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোন স্বনির্ভর গোষ্ঠী ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রান্না করবে, তা নিয়ে কয়েক বছর ধরে বিবাদ চলছে। গত ১২ মে সমস্যা মেটানোর জন্য জেলাশাসকের দফতরে আলোচনা হয়। সেখানে দ্রুত মি়ড ডে মিল চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার পর বিডিও একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ওই স্কুলের মিড ডে মিল তৈরির নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী, এ দিন স্কুলের রান্না ঘরে উনুন তৈরির কাজ চলছিল। তখন কয়েক জন পুরুষ ও মহিলা স্কুলে ঢুকে প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। তাঁর জামার কলার ধরে রাস্তা দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। মিড ডে মিলের উনুন ভেঙে ফেলা হয়। ছাত্রছাত্রীরা ভয়ে পালিয়ে যায়।

এ দিন দুপুরে ওই স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, অভিভাবকদের জটলা। প্রতিটি ক্লাস ঘরের চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ উল্টে রয়েছে। ছড়িয়ে নথিপত্র। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহন মাঝির অভিযোগ, ‘‘মিড ডে মিল রান্নার দায়িত্ব দিতে হবে, এই দাবি তুলে কয়েক জন আমার উপরে চড়়াও হয়। তাদের মধ্যে স্থানীয় পঞ্চায়েতের ১৫৩ নম্বর সংসদ এলাকার সদস্যাও ছিলেন। সহকারী শিক্ষকেরা পুলিশে খবর দেওয়ায় প্রাণে বেঁচে যাই।’’ সহকারী শিক্ষক সৌমেন্দ্র মিস্ত্রি, পরিতোষ মান্নাদের দাবি, মোহনবাবুকে বাঁচাতে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাধাবল্লভপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চুপরিঝাড়া পঞ্চায়েতের ১৫২ নম্বর গ্রাম সংসদের অন্তর্গত। আগে ভোটের সময় ওই স্কুলে একটিই বুথ হতো। পরে সেখানে ১৫৩ নম্বর সংসদের বুথ তৈরি হয়। কোন সংসদ এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠী স্কুলে মিড ডে মিলের কাজ করবে, তা নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। যার জেরে কয়েক বছর ধরে মিড ডে মিল বন্ধ ছিল। স্কুলের উন্নয়নও প্রায় থমকে গিয়েছে। শৌচাগার ও নলকূপ বেহাল। বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি অনুদান এলেও দুই পঞ্চায়েত সদস্যের বিবাদের জেরে সেটা খরচ করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠছে।

১৫২ নম্বর বুথের এসইউসি সদস্য রউপ গায়েনের অভিযোগ, ‘‘পাশের বুথের সিপিএম সদস্যার নেতৃত্বে মিড ডে মিলের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ওদের এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠী বরাত পায়নি বলেই এই ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’’ সিপিএম সদস্যা সাকিনা শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। কুলতলির সিপিএম বিধায়ক রামশঙ্কর হালদার দলের পঞ্চায়েত সদস্যার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বীকার করা নিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘‘আমাদের সদস্যা অন্যায় করেছেন। তবে আমাদের সদস্যাকেও মারধর করা হয়েছে।’’ ওই স্কুলে মিড ডে মিলের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ম মেনে হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বিডিও কমলেশ মণ্ডল বলেন, ‘‘সঠিক পদ্ধতি মেনেই রাধাবল্লভপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রান্নার দায়িত্ব বণ্টন হয়েছে। পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছে।’’ পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement