Crisis of Doctors

চিকিৎসকহীন স্বাস্থ্যকেন্দ্র মৌসুনি দ্বীপে, প্রশ্ন পরিকাঠামো নিয়ে

চার দিকে জঙ্গল ঘেরা বাগডাঙা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভবনের দেওয়ালে একাধিক ফাটল দেখা দিয়েছে।

সমরেশ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:৪৮
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

নির্বাচন এলেই প্রতিশ্রুতি, আর ভোটপর্ব মিটলে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা বেহাল থাকাই যেন দস্তুর মৌসুনি দ্বীপে। রাতবিরেতে, বিশেষত বর্ষায়, নদী পথে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছনও মানে রীতিমতো যুদ্ধ। কিন্তু সেখানে পৌঁছেও পরিকাঠামোর অভাবে চিকিৎসা না মেলার অভিযোগ দ্বীপবাসীর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের মৌসুনি দ্বীপের বাগডাঙা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকের অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। প্রত্যন্ত এই দ্বীপ এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রই যেখানে মানুষের একমাত্র ভরসা, সেটাও নড়বড়ে।

স্থানীয় বাগডাঙা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থায়ী কোনও চিকিৎসক নেই বলে অভিযোগ। মাত্র তিন জন নার্স ও একজন ফার্মাসিস্টের উপরে ভর করেই চলছে গোটা পরিষেবা। চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে সাধারণ জ্বর-সর্দি থেকে শুরু করে জরুরি রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসার দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে নার্সদেরই। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। মৌসুনি পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের বসবাস, অথচ তাঁদের জন্য এই একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রই দুর্বল পরিকাঠানোর জেরে সঙ্কটে।

শুধু পরিষেবার অভাব নয়, উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোও। চার দিকে জঙ্গল ঘেরা বাগডাঙা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভবনের দেওয়ালে একাধিক ফাটল দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে দাবি এলাকাবাসীদের। এরই মধ্যে চিকিৎসা নিতে আসতে হয় রোগীদের, বিপদের মধ্যেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরাও। চিকিৎসক না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নদী পার করে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের দ্বারিকনগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে। নদীনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতির রোগী পরিবহণে অন্তরায় হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়েরা। অনেক সময়ে এই দীর্ঘ যাত্রাপথই রোগীর প্রাণসঙ্কটের কারণ হচ্ছে বলে অভিযোগ দ্বীপবাসীদের। বিশেষ করে রাতে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, গত বিধানসভা ভোটের আগে মৌসুনি দ্বীপে দশ শয্যার একটি হাসপাতাল, ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা পরিষেবা এবং জরুরি রোগী পরিবহণের জন্য অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে আজও তার কোনওটাই মেলেনি বলে অভিযোগ। অবিলম্বে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ, ভবনের সংস্কার, ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা পরিষেবা চালু এবং দ্বীপ এলাকায় স্থায়ী অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা বাচস্পতি গুড়িয়া বলেন, ‘‘ডাক্তার না থাকায় নার্সদেরই সব দায়িত্ব নিতে হয়। পরিকাঠামো দুর্বল জেনেও রাতে অসুস্থ হলে নদী পেরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকে না।’’ নামখানা ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভ্রনীল দাস বলেন, ‘‘ব্লকে যেখানে প্রায় ন’জন চিকিৎসক থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে রয়েছেন মাত্র পাঁচ জন। তবুও পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। দ্বীপ এলাকা হওয়ায় চিকিৎসকেরা স্থায়ী ভাবে থাকতে চান না। সে কারণে মৌসুনিতে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’’ সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা বলেন, ‘‘মৌসুনি দ্বীপে চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত করার বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতরকে লিখিত জানানো হয়েছে। পরিষেবা বন্ধ হয়নি, চালু রয়েছে। তবে দ্বীপ এলাকায় চিকিৎসকেরা স্থায়ী ভাবে থাকতে চাইছেন না। বিষয়টি সিএমওএইচকে জানানো হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন