প্রতীকী ছবি।
কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর খুনের অভিযোগ তুলল বিজেপি। সোমবার মোহনপুরের সিয়ালসাই এলাকার ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
পুলিশ দেহ উদ্ধারে এলে বিজেপির পক্ষ থেকে বাচ্চু বেরার দেহ তুলতে বাধা দেওয়া হয়। তদন্তের দাবিতে সিয়ালসাই-কেওটখলিসার রাস্তায় পথ অবরোধ করেন বিজেপি সমর্থকেরা। যদিও তৃণমূল অভিযোগ মানেনি। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের দাবি, এটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে খবর, অষ্টমীর দিন প্রতিবেশী এক কিশোরকে জামা কিনে দেওয়ার নাম করে সাইকেলে চাপিয়ে নিয়ে যান বাচ্চু। জামা-প্যান্ট কিনে দেওয়ার পর জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করেন বলে অভিযোগ। ওই কিশোর পালিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের জানায়। তাঁরা পুলিশে খবর দেন। ঘটনা জানাজানির পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন বাচ্চু। সোমবার দুপুরে বাড়ি থেকে দূরে জঙ্গলে গলায় গামছার ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়।
বিজেপির দাবি, মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন আছে। মৃত বাচ্চু সিয়ালসাই বুথ এলাকার দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। স্থানীয় বিজেপি নেতা সত্যগোপাল দাস বলেন, ‘‘বিজেপি করার অপরাধে তৃণমূলের লোকেরাই খুন করেছে। মৃতদেহে আঘাত রয়েছে। সঠিক তদন্ত হোক।’’ মৃতের স্ত্রী গৌরী বলেন, ‘‘বিজেপি করার জন্য তৃণমূলের লোক খুন করেছে। ঘরে এসে হুমকিও দিয়েছিল।’’
ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব প্রদীপ পাত্র বলেন, ‘‘কী ভাবে মৃত্যু হয়েছে তার তদন্ত পুলিশ করবে। তবে এর সঙ্গে তৃণমূল জড়িত নয়। দুটি পরিবারের ঝামেলার জের।’’ বিজেপির জেলা সভাপতি শমিত দাশ বলেন, ‘‘দাঁতন এবং মোহনপুর থানা এলাকায় বেশি রাজনৈতিক খুনের ঘটনা ঘটছে। পুলিশের অপদার্থতা প্রকাশ পেয়েছে। ভোটের আগে তৃণমূল ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই এই ঘটনা ঘটাচ্ছে।’’ বেলদা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুমনকান্তি ঘোষ বলেন, ‘‘একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় দেহ উদ্ধার হয়েছে। সোমবার রাত পর্যন্ত কোনও অভিযোগ হয়নি।’’