রাস্তার দু’ধারে হাজার দশেক গাছ কাটার নালিশ

green tribunal: গাছ লাগানোর নির্দেশ দিল জাতীয় পরিবেশ আদালত

পরিবেশবিদ ও বাসিন্দাদের দাবি, কেটে ফেলা প্রাচীন গাছগুলি ছিল এলাকার ঐতিহ্য। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতেও তাদের গুরুত্ব অপরিসীম।

Advertisement

সীমান্ত মৈত্র  

শেষ আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০২১ ০৮:২৫
Share:

রাস্তার ধারে পড়ে আছে কাটা গাছ। ছবি: নির্মাল্য প্রামাণিক।

গত কয়েক মাস ধরে বনগাঁ-চাকদহ সড়ক সম্প্রসারণে কাজ চলছে। এ জন্য রাস্তার দু’পাশে কয়েক হাজার প্রাচীন গাছ কাটা পড়েছে। কিন্তু পরিবর্তে কোনও গাছ লাগানো হয়নি।

Advertisement

এই অভিযোগ নিয়ে চাকদহের বাসিন্দা দুই পরিবেশকর্মী পিয়ালি মণ্ডল ও মিঠুন রায় জাতীয় পরিবেশ আদালতের (ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল) দ্বারস্থ হয়েছিলেন মার্চ মাসে। তাঁদের হয়ে মামলা লড়ছেন আইনজীবী মুকুল বিশ্বাস। সোমবার আদালত ওই মামলায় রাজ্যের সড়ক উন্নয়ন পর্ষদকে গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মুকুল বলেন, ‘‘১৬ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই সময়ের মধ্যে রাজ্যকে আদালতে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে, কোন মৌজায়, কতটুকু এলাকায় কতগুলো গাছ লাগানো হয়েছে। সঙ্গে গাছ লাগানোর ছবিও জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।’’ উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক সুমিত গুপ্তা বলেন, ‘‘জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশের কপি পাইনি। তবে শুনেছি। আদালতের নির্দেশ মেনে নিশ্চয়ই গাছ লাগানো হবে।’’

Advertisement

মামলার আবেদনকারীরা আদালতে জানিয়েছিলেন, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার গাছ কাটা পড়েছে। আদালতের এই নির্দেশে এখন খুশি তাঁরা। বিষয়টিকে স্বাগত জানাচ্ছেন পরিবেশকর্মীরাও।

যদিও অভিযোগ, অনেক সময়েই এ ধরনের নির্দেশ পূরণ করা হয় না। যেমন, ১১ বছর আগে বেহাল সরু বনগাঁ-চাকদহ সড়কটি সম্প্রসারণ করে ঝাঁ চকচকে চওড়া রাস্তা তৈরি হয়। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাঙ্কের আর্থিক ঋণের টাকায় প্রায় ৩২ কিলোমিটার লম্বা রাস্তাটির সম্প্রসারণ হয়েছিল। সড়কের ১৬ কিলোমিটার অংশ উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যে পড়ে। বাকি অংশ নদিয়ার মধ্যে পড়ে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলার অংশে সড়কটি সম্প্রসারণের জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েক হাজার গাছ কাটা হয়েছিল সে সময়ে। প্রচুর প্রাচীন গাছও ছিল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একটি কাটা গাছের পরিবর্তে পাঁচটি চারা লাগানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

পরিবেশ কর্মীদের মতে, পর্যাপ্ত গাছ না লাগানোর ফলে এলাকার পরিবেশের উপরে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বৃষ্টিপাত কমে গিয়েছে। বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বছর পাঁচেক আগে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর বনগাঁ শাখা ও কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছিল। এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের তরফে আম, লম্বু, মেহগনি, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়ার মতো বিভিন্ন গাছের চারা পোঁতা হয়। এপিডিআর-এর বনগাঁ শাখার সম্পাদক অজয় মজুমদার বলেন, ‘‘অতীতেও আমরা দেখেছি, সড়ক সম্প্রসারণের জন্য গাছ কাটা হলেও প্রশাসন নিয়ম মেনে গাছ লাগায়নি। আমরা এবং কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সড়কের দু’পাশে গাছ লাগিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গাছগুলি বাঁচানো যায়নি। আমরা চাই, এ বার প্রশাসন গাছ লাগানোর পাশাপাশি তা রক্ষণাবেক্ষণের দিকে নজর দিক।’’

পরিবেশবিদ ও বাসিন্দাদের দাবি, কেটে ফেলা প্রাচীন গাছগুলি ছিল এলাকার ঐতিহ্য। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতেও তাদের গুরুত্ব অপরিসীম। শিরীষ গাছ ‘রেন ট্রি’ হিসেবে কাজ করে। গাছের শিকড় মাটির গভীরে ঢুকে ভূমিক্ষয় রোধ করে। গাছে প্রচুর পাখিদের আনাগোনা ছিল। সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ওই সড়কের নিবিড় যোগাযোগ ছিল। তিনি এই পথে হেঁটে গোপালনগরের বারাকপুর থেকে বনগাঁয় আসতেন। প্রবীণ মানুষদের দাবি, গাছ ক্রমশ কমে যাওয়ায় গরম বেড়েছে। মেঘ করে এলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয় না। ফের এত গাছ কাটার ফলে সমস্যা বাড়বে।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, নির্বিচারে গাছ কাটা হলে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে। এর থেকে বিভিন্ন রোগের প্রকোপও বাড়তে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement