Illegal Construction Business

নজরুল সৈকতে ইমারতির কারবার, ক্ষতির মুখে বাঁধ

বহু বছর আগে পুরসভার উদ্যোগে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে নজরুলের আবক্ষ মূর্তি বসিয়ে সূচনা হয়েছিল নজরুল সৈকতের।

নির্মল বসু 

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৫ ০৮:৪৬
Share:

এই ভাবেই চলছে কারবার। নিজস্ব চিত্র।

ইছামতী নদীর পাড় দখল করে সরকারি পার্কের উপরে অবাধে চলছে ইমারতি ব্যবসা। ইট, বালি, পাথর, খোয়া রাখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুরপ্রধান গুরুত্ব না দেওয়ায় ভাঙনপ্রবণ এলাকায় রমরমিয়ে চলছে ইমারতি ব্যবসা। ফলে বাঁধ ভাঙছে। পুরসভার পক্ষে জানানো হয়েছে, দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

টাকি পুরসভার ইছামতী নদীর পাড়ে কাজী নজরুল ইসলামের নামাঙ্কিত সৈকত দখল করে অবাধে চলছে ইমারতি ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ। যার জেরে নদীবাঁধে ভাঙ্গন বাড়ছে বলেও মনে করছেন স্থানীয় মানুষের একাংশ। ইতিমধ্যে এলাকার বাঁধের বড় অংশে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর জলে তলিয়ে যেতে বসেছে বেশ কয়েকটি দোকান।

পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে হাসনাবাদ মধ্য বাজার সংলগ্ন নজরুল পার্ক। বহু বছর আগে পুরসভার উদ্যোগে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে নজরুলের আবক্ষ মূর্তি বসিয়ে সূচনা হয়েছিল নজরুল সৈকতের। ২০১৭ সালে ফের সৌন্দর্যায়ন ও সংস্কারের কাজ হয়েছিল।স্থানীয় অনেকে জানান, টাকির শোভা দেখতে সারা বছর বহু পর্যাটক আসেন। নজরুল সৈকত তাঁদের কাছে আকর্ষণীয়।

মিঠু ঘোষ, বন্দনা রায় বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে চলছে ইমারতি ব্যবসা। আট চাকা, দশ চাকার লরি করে সেখানে ইট, বালি,পাথর, খোয়া এনে রাখছেন ব্যবসায়ীরা। নজরুল সৈকতের উপরে এ ভাবে চলছে ব্যবসা।’’

পার্কের পাশে থাকা নৌকোয় করে প্রযোজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে। বড় বড় ভারী গাড়ি নদীবাঁধের উপর দিয়ে যাতায়াত করায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে পার্কটির বড় অংশ নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। রাস্তা আটকে দিনের পর দিন লরি দাঁড়িয়ে থাকায় স্থানীয় মানুষ, দোকানি, পথচারীদের অসুবিধা হচ্ছে। ছোটখাটো গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্সও আটকে পড়ে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী পরিতোষ ঘোষ বলেন, ’’এখানে এক রকম জোর করেই বাঁধের ক্ষতি করে ব্যবসা চলছে। রাস্তা জুড়ে লরি দাঁড়িয়ে থাকায় অনেকে সমস্যায় পড়েন।’’ স্থানীয় বাসিন্দা প্রবীর সরকার, প্রশান্ত পাত্রদের কথায়, ‘‘ভারী লরির চাকায় বাঁধের পাশের মাটি বসে ফাটল ধরায় নদীগর্ভে চলে যেতে বসেছে নজরুল সৈকত। প্রতিবাদ করেও কোনও লাভ হয় না।’’

এ বিষয়ে টাকির উপপুরপ্রধান ফারুক গাজি বলেন, ‘‘বিষয়টি লিখিত ভাবে আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা থানাকে জানিয়েছি। ইতিমধ্যে নজরুল সৈকত সংস্কারের জন্য বেশ কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে। দ্রুত যাতে পার্কটি সংস্কার করা যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।’’ বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ইমারতি দ্রব্য ওঠানো-নামানোর জন্য বিকল্প জায়গার খোঁজ চলছে। নদীবাঁধ মেরামত এবং নজরুল সৈকত সংস্কারের চেষ্টা চলছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন