Sundarbans

নিম্নচাপের আশঙ্কা, আতঙ্কে রাত কাটছে বহু সুন্দরবনবাসীর

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। তার জেরেই ৩ জুলাই উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০২:০১
Share:

— ফাইল চিত্র।

ফের নিম্নচাপের আশঙ্কায় সুন্দরবন। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির পূর্বাভাস ঘিরে উপকূল জুড়ে শুরু হয়েছে সতর্কতা। ৩ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে, জারি হয়েছে ‘লাল সতর্কতা।’ শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় সুন্দরবনের একাধিক দুর্বল নদীবাঁধ ঘিরেও বাড়ছে উদ্বেগ। ফলে বর্ষার শুরুতেই নতুন করেদুর্যোগের প্রহর গুনছেন উপকূলের মানুষজন।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। তার জেরেই ৩ জুলাই উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে শুক্রবার থেকেই সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে অতি ভারী বৃষ্টির ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির ‘হলুদ সতর্কতা’ রয়েছে।

সোমবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস। মঙ্গলবারও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

নিম্নচাপের আশঙ্কার জেরে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে ৩ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের। সমুদ্রে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বেড়েছে সুন্দরবনের উপকূলবর্তী এলাকায়। ঘোড়ামারা, মৌসুনি, পাতিবুনিয়া, নারায়ণপুর, মন্দিরঘাট, গোবর্ধনপুর, কপিলমুনি মন্দির সংলগ্ন সমুদ্রতট, কচুবেড়িয়া, মহিষামারি এবং পাথরপ্রতিমার বিভিন্ন দ্বীপ এলাকায় বহু নদীবাঁধ এখনও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, প্রবল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাস এক সঙ্গে হলে দুর্বল বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকায় নোনা জল ঢুকে চাষের জমি, মাছের ভেড়ি এবং বসতি প্লাবিত হতে পারে। উপকূলের থানাগুলির পক্ষ থেকে মাইক প্রচার করা হচ্ছে।

কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, ‘‘আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা মেনে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের প্রকৃতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনও ট্রলার যাতে না যায়, সে বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। শুক্রবার সকালের মধ্যে ট্রলারগুলি উপকূলে ফিরে আসবে।’’

সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, ‘‘আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস দেখে উপকূলবর্তী সমস্ত ব্লক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও যাতে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন