— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
রাজ্যে ‘এসআইআর আতঙ্কে’ আরও এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। নতুন বছরের প্রথম দিনে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে ঘটনাটি ঘটেছে। ৬০ বছরের ওই বৃদ্ধের নাম সুলতান সর্দার। ঘটনাচক্রে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না তাঁর। এসআইআর-এর শুনানিতেও ডাক পেয়েছিলেন। শুনানি থেকে ফেরার মাত্র চার দিনের মাথায় মৃত্যু হল তাঁর।
স্বরূপনগর থানার স্বরূপদা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই বৃদ্ধের। মৃতের পরিবার সূত্রে খবর, সুলতান দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু তাঁর পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথিতে কিছু সমস্যা ছিল। ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও নাম ছিল না তাঁর। পাঁচ দিন আগে সুলতানের বাড়িতে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়। সেই মতো গত ২৭ ডিসেম্বর স্বরূপনগর বিডিও অফিসে শুনানির জন্য যান সুলতান। পরিবারের দাবি, শুনানিতে তাঁকে বলা হয়, তাঁর নথিপত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। অভিযোগ, এর পর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধ।
সুলতানের পরিজনদের কথায়, গত ২৭ ডিসেম্বর শুনানি থেকে ফেরার পর থেকেই বৃদ্ধ আতঙ্কে ভুগছিলেন। মানসিক চাপে অসুস্থও হয়ে পড়েন তিনি। শেষমেশ বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। সুলতানের স্ত্রী দিলওয়ারা বিবি জানিয়েছেন, ২০০২ সালে তাঁর স্বামী পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন। ভিন্রাজ্যে কাজ করতেন। তাই সুলতানের বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকলেও সুলতানের নাম ওঠেনি। সাম্প্রতিক এসআইআর পর্বে সুলতানকে স্বরূপনগর বিডিও অফিসে শুনানির জন্য ডাকা হয়। দিলওয়ারার কথায়, ‘‘২৭ ডিসেম্বর বিডিও অফিসে শুনানিতে গিয়েছিল। সেখানে ওকে বলা হয়, কাগজপত্রে গরমিল আছে। স্বামী দুশ্চিন্তা করতে করতে বাড়ি ফেরে এবং তার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। বার বার বলছিল, এই বয়সে সন্তান-পরিবার ছেড়ে কোথায় যাব।’’ সুলতানের ছেলে ওসমান বলেন, ‘‘এসআইআরের আতঙ্কে আমার বাবার মৃত্যু হল। এই এসআইআর অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। না হলে আমরা কেউ বাঁচব না। আমাদেরও মৃত্যু হবে।’’