নিহত নেতা নব্যেন্দু ঘোষ। ছবি: সংগৃহীত।
বর্ষবরণের রাতে পিকনিক করতে গিয়ে আততায়ীদের হাতে খুন হলেন তৃণমূল যুবনেতা! বুধবার রাতে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত নেতার নাম নব্যেন্দু ঘোষ (৩৭)। যুব তৃণমূলের উত্তর দিনাজপুর জেলার সহ-সভাপতি ছিলেন তিনি। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। সকালের মধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই খুন কি না, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বর্ষশেষের রাতে রায়গঞ্জের মোহনবাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায় বাড়ির কাছেই বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করছিলেন নব্যেন্দু। সেই সময় আচমকা তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, বাইকে চড়ে কয়েক জন ঘটনাস্থলে এসে নব্যেন্দুর উপর চড়াও হন। রক্তাক্ত নব্যেন্দুকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তৃণমূল যুবনেতার মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই খুনের ঘটনায় নানা জল্পনাও শুরু হয়েছে। নব্যেন্দুর মায়ের দাবি, ষড়যন্ত্র করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। প্রৌঢ়া বলেন, ‘‘বুধবার রাতে ও আমাকে জড়িয়ে ধরে হ্যাপি নিউ ইয়ার বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। ষড়যন্ত্র করেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ও এখন কোনও কিছু করত না। পার্টির কর্মসূচিতেও যেত না। দোকানদারি করছিল, বাড়িতে সময় দিচ্ছিল। কে শত্রুতা করে এমন করল, আমরা কিছুই জানি না।’’
নব্যেন্দুর বাবাও বলছেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘‘ছেলে বুধবার রাত ১২টার আগে বাড়িতে হ্যাপি নিউ ইয়ার বলতে এসেছিল। তার পর পিকনিকে চলে যায়। কেন এমন হল, জানি না। কারও সঙ্গে ওর কোনও শত্রুতা ছিল না। পরিকল্পনা করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’’ নিহত নেতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নব্যেন্দুর কাছে দেড় লক্ষ টাকা দামের একটি মোবাইল ফোন ছিল। সেই ফোনের জন্যই তাঁকে খুন হতে হয়েছে কি না, না কি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে রাতেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।