মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নিয়মকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের মতো করে ফল প্রকাশ করছে কাকদ্বীপ মহকুমার বিভিন্ন বড় স্কুল। মার্কশিটে দেওয়া নম্বরের ভিত্তিতে পরের ক্লাসের রোল নম্বর ঠিক হওয়ায় বাচ্চাদের মধ্যে বৈষম্য হচ্ছে বলে শিক্ষকমহলের একটি অংশের আপত্তি রয়েছে। পর্ষদের নির্দেশে গ্রেডের ভিত্তিতে ফলপ্রকাশ বা পরের ক্লাসের রোল নম্বর তৈরি করার কথা।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের এক কর্তা বলেন, ‘‘নমুনা মার্কশিটের পিছনে কত নম্বর পেলে কার কী গ্রেড হবে, তা বলা রয়েছে। কিন্তু তা মার্কশিটের মোট নম্বরে আসার কথা নয়। তা প্রকাশ্যে দিয়ে বাচ্চাদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হওয়ারও কথা নয়। তাই প্রায় দু’বছর আগে ওই নির্দেশিকা জারি করেছিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।’’
তা হলে কেন মানা হচ্ছে না নিয়ম?
প্রধান শিক্ষকদের যুক্তির তফাত আছে। কাকদ্বীপের বড় স্কুলগুলির মধ্যে বীরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন একটি। মার্কশিটে নম্বর না থাকলেও নম্বরের শতাংশের হিসেব রয়েছে তাঁদের দেওয়া মার্কশিটে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাস বলেন, ‘‘গ্রেডের ভিত্তিতে ফলাফল তৈরি করলে অনেকেই একটি সেকশনে জায়গা পাবে। কিন্তু এক একটি ঘরে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ছেলেমেয়ের বেশি নেওয়া সম্ভব হয় না।’’
সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দিরও মার্কশিটে মোট নম্বর যোগ করেই তার ভিত্তিতেই তৈরি করেছে স্কুলের ফলাফল, এবং রোল নন্বর। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শঙ্কর বিশ্বাস বলেন, ‘‘গ্রেডেশন ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষকদেরই সুবিধা। কিন্তু তা অভিভাবকেরাই মানবেন না। তা ছাড়াও, গ্রেডেশনটাও এক রকম মেধার ভিত্তিতেই ছাত্রদের ভাগ করা। নম্বরের ভিত্তিতে করলে তা আরও সুক্ষ্ম ভাবে করা সম্ভব হয়।’’
কাকদ্বীপের আরও দু’টি বড় স্কুল, শিশু শিক্ষায়তনে মার্কশিটে মোট নম্বর যোগ করে বসানো হয়নি ঠিকই, কিন্তু নম্বরের ভিত্তিতেই ফলাফল তৈরি করা হয়েছে এবং তা দেওয়ালে টাঙিয়ে ছাত্রছাত্রীদের নতুন রোল নম্বর বলে হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ প্রামাণিকের দাবি, পর্ষদের বলে দেওয়া পথেই তাঁরা মার্কশিট তৈরি করেছেন। নতুন রোল নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি জায়গায় তা করতে হয়েছে। জেলা স্কুল পরিদর্শক বাদলকুমার পাত্র বলেন, ‘‘এ রকম যে হচ্ছে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখছি, স্কুলগুলি কী ভাবে নতুন ক্লাসে রোল নম্বর ঠিক করছে।’’