Anandapur Fire Incident

আনন্দপুরে ভস্মীভূত ডেকরেটর্স গুদামের মালিক গ্রেফতার, জোড়া মামলা রুজু! বাড়ল মৃতের সংখ্যা, গাফিলতির জেরে দুর্ঘটনা?

রবিবার রাত ৩টে নাগাদ পূর্ব কলকাতার জোড়া গুদামে আগুন লাগে। সোমবার পেরিয়ে মঙ্গলবারও বিকেল পর্যন্ত সেখানে ধিকধিক করে আগুন জ্বলেছে। পুড়ে যাওয়া গুদামের ইতিউতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল দেহাংশ।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৫
Share:

আনন্দপুরের ভস্মীভূত গুদাম। —ফাইল চিত্র

আনন্দপুরের নাজিরাবাদে জোড়া গুদামে আগুন লাগার ঘটনায় বাড়ল মৃতের সংখ্যা। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। তবে এখনও নিখোঁজ অনেকে। অন্য দিকে, নাজিরাবাদে ভস্মীভূত ডেকরেটর্সের গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গাফিলতির জেরে মৃত্যুর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তিনি। ডেকরেটর্সের গুদাম লাগোয়া মোমো কোম্পানির গুদাম ছিল। সেটিও আগুনে পুড়ে খাক। ওই মোমো কোম্পানির মালিকদের বিরুদ্ধেও একই ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত মোমো কোম্পানির কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

Advertisement

রবিবার রাত ৩টে নাগাদ পূর্ব কলকাতার জোড়া গুদামে আগুন লাগে। সোমবার পেরিয়ে মঙ্গলবারও বিকেল পর্যন্ত সেখানে ধিকিধিকি করে আগুন জ্বলেছে। পুড়ে যাওয়া গুদামের ইতিউতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল দেহাংশ। ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ঠিক কত জন ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দগ্ধ দেহাংশ দেখে পরিচয় জানার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। এখনও পর্যন্ত পুলিশ ১১ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। তবে তাঁরা কারা, কোথাকার বাসিন্দা— তা এখনও জানা যায়নি। এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে নিখোঁজ রয়েছেন ২০ জন।

কী ভাবে আগুন লাগল, কোন গুদাম থেকে আগুন ছড়াল— তা এখনও স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। দমকলের অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় গাফিলতির জেরে মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পুলিশও একই ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। জোড়া মামলার তদন্তে নেমে মঙ্গলবার রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে গঙ্গাধরকে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। বুধবার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর পর তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদনও করবেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

যদিও গঙ্গাধরের দাবি, গাফিলতি তাঁর নয়। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেছেন, মোমো কারখানার গাফিলতির কারণেই আগুন লাগে। এই তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসা সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছে। তবে আগুন কোথা থেকে ছড়াল, তা এখনও নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছেন না।

আনন্দপুরের ভস্মীভূত জোড়া গুদামে আদৌ কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, প্রশ্ন উঠছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দমকল বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে দমকলের তরফে ওই গুদামের কোনও ছাড়পত্র ছিল না। অনুমোদন ছাড়াই কী ভাবে দিনের পর দিন ওই গুদাম চলছিল, সেই প্রশ্ন ওঠে। রণবীর জানান, বিভাগের তরফে কোনও ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কলকাতা পুরসভা এ ব্যাপারে কেন কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেও অনেকে প্রশ্ন তোলেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এ ব্যাপারে বলেন, ‘‘কারও রুটিরুজি বন্ধ করা ঠিক নয়। তা হলে তো আপনারাই আবার প্রশ্ন করবেন।’’ জলাভূমি ভরাট করে ওই গুদামগুলি তৈরি হয়েছে বলে নানা মহল থেকে দাবি ওঠে। যদিও ফিরহাদ দাবি করেন, ওই গুদাম জলাভূমির উপর ছিল কি না তাঁর জানা নেই। তবে নতুন করে আর কোনও জলাভূমি ভরাট হচ্ছে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement