Noise pollution: দাপট এয়ার হর্নের, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী 

মহকুমা শহর ক্যানিংয়ে যানজট লেগেই থাকে। মূলত হাসপাতাল মোড় থেকে শুরু করে নতুন অটো স্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তায় যানজট হয়।

Advertisement

প্রসেনজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ২২ অগস্ট ২০২১ ০৭:৩৭
Share:

নজরদারি: ক্যানিংয়ের রাস্তায় পুলিশ। নিজস্ব চিত্র।

ক্যানিং-বারুইপুর রাস্তার পাশেই ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল। সামনে দিয়ে বড় বড় ট্রাক, বাস চলাচল করে। অনেক সময়েই কানফাটানো আওয়াজে এয়ার হর্ন বাজাতে থাকে তারা। রোগীদের সমস্যা হয়। হাসপাতালের সামনে ‘হর্ন বাজাবেন না’ বলে পূর্ত দফতরের লাগানো বোর্ড থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা কেউ মানে না বলে অভিযোগ।

Advertisement

মহকুমা শহর ক্যানিংয়ে যানজট লেগেই থাকে। মূলত হাসপাতাল মোড় থেকে শুরু করে নতুন অটো স্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তায় যানজট হয়। আর এই এলাকাতেই এয়ার হর্নের দাপট বেশি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর আত্মীয় রবিন সর্দার, সুজাতা মণ্ডলরা জানান, মাঝে মধ্যেই অত্যন্ত কর্কশ ও তীক্ষ্ণ আওয়াজে কষ্ট হয়। চিকিৎসাধীন রোগীদের তো কষ্ট হবেই। অবিলম্বে এই ধরনের হর্ন বন্ধ করা উচিত বলে মনে করেন তাঁরা।

মহকুমা হাসপাতালের নাক, কান গলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিকাশ সিংহ বলেন, ‘‘এয়ার হর্ন বা তীব্র শব্দযুক্ত হর্নের আওয়াজে মানুষ শ্রবণশক্তি হারাতে পারেন। এ ছাড়া, এর ফলে হৃদরোগজনিত সমস্যাও বাড়তে পারে।’’

Advertisement

তবে বাস বা ট্রাক চালকদের দাবি, দুর্ঘটনা এড়াতেই এই ধরনের জোরাল হর্ন ব্যবহার করা হয়। ট্রাক চালক নিজাম মোল্লা বলেন, ‘‘সাধারণ হর্ন বাজালে অনেক সময়ে সামনের গাড়ি, মানুষ সরতে চান না। কিন্তু এয়ার হর্ন বাজালে দ্রুত রাস্তা ফাঁকা হয়ে যায়।”

ট্রাকে এয়ার হর্ন লাগানো থাকলে পুলিশের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেই দাবি বারুইপুর পুলিশ জেলার ডিএসপি ট্রাফিক সৌম্যশান্ত পাহাড়ির। তিনি বলেন, “লাগাতার আমরা এই হর্নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিই। জরিমানাও করা হয়।” ক্যানিং মহকুমা পুলিশ ট্রাফিক গার্ড সূত্রের খবর, গত এক বছরে প্রায় ২০টির বেশি ট্রাক, লরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এয়ার হর্ন ব্যবহারের জন্য। তবে লরি বা ট্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বেশ কিছু বেসরকারি বাস এই এয়ার হর্ন ব্যবহার করে। তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা পুলিশের তরফে নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যানিং ট্রাফিক গার্ডের এক কর্মী বলেন, ‘‘বেশিরভাগ বেসরকারি বাসই শাসকদলের কোনও না কোনও নেতার মালিকানাধীন। তাই সেগুলির বিরুদ্ধে সে ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।” এ বিষয়ে আইএনটিটিইউসির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি শক্তিপদ মণ্ডল অবশ্য বলেন, ‘‘আসলে বিষয়টি তা নয়, লোকাল ট্রেন বন্ধ, পেট্রল-ডিজ়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতি স্বীকার করেও বাস মালিকেরা বাস চালাচ্ছেন সরকারের অনুরোধে। সে কারণেই হয় তো পুলিশ বাস মালিকদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে।” তিনি আরও বলেন, “যাঁরা এই ধরনের হর্ন ব্যবহার করছেন, তাঁদের অবিলম্বে এগুলি বন্ধের অনুরোধ করব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement