Death

Accident: ট্রেনের ধাক্কায় পর পর মৃত্যু, তা-ও হুঁশ ফিরছে না অনেকের

রেল লাইনের উপরে অসতর্ক ভাবে গল্পগুজব করা বা ফোনে কথা বলার জন্য বার বার দুর্ঘটনা ঘটছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২২ ০৭:০১
Share:

ট্রেনের ধাক্কায় শনিবার সকালে বনগাঁ-রানাঘাট শাখার গোপালনগরের কাছে তন্ময় অধিকারী নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, দুর্ঘটনার আগে তিন বন্ধু রেলসেতুতে দাঁড়িয়ে গল্প করছিল।

Advertisement

রেল লাইনের উপরে অসতর্ক ভাবে গল্পগুজব করা বা ফোনে কথা বলার জন্য বার বার দুর্ঘটনা ঘটছে। তা-ও কিছু মানুষের হুঁশ ফিরছে না বলে অভিযোগ।

গত কয়েকদিনে সচেতনতার অভাবে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দিন কয়েক আগেই বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখায়, অশোকনগর ও গুমা স্টেশনের মাঝে কাঞ্চনপল্লি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় এক নাবালক-সহ দু’জনের। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেল লাইনের উপরে বসে কানে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইল গেমে বুঁদ হয়ে ছিল তারা। ট্রেন যে আসছে, তা বুঝতেই পারেনি।

Advertisement

বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখায়, গোবরডাঙা শ্মশান-লাগোয়া রেলসেতু এলাকায়ও দিন কয়েক আগে এক যুবকের মৃত্যু হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেলসেতুতে দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলছিলেন যুবক। ট্রেন আসছে, বুঝতেই পারেননি। শেষ মুহূর্তে সেতু থেকে কোনও রকমে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে যমুনা নদী থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল।

অসচেতন ভাবে রেললাইনের উপরে চলে আসায় দিন কয়েক আগে ট্রেনের ধাক্কায় মারা যায় হাবড়ার নেহরুবাগ কলোনির বাসিন্দা এক শিশুও।

বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখায় বনগাঁ থেকে বামনগাছি পর্যন্ত ১৩টি স্টেশন রয়েছে। রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। বনগাঁ-রানাঘাট শাখার দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটার। রেললাইনের দু’পাশে বহু পরিবার বসবাস করে। লোকজন লাইনের উপরে বা পাশে জামা-কাপড়, শাড়ি শুকোতে দেন। ঘুঁটে দেন। স্নান করেন। গল্পগুজব করেন। এমনকী খেলাধূলাও চলে। অনেক ক্ষেত্রেই রেলপাড়ের মানুষেরা ট্রেনের কথা ভুলে যান। আর তখনই ঘটে দুর্ঘটনা।

শনিবার দুর্ঘটনার পরে রেললাইন ধরে ঘুরে দেখা গেল, বিপজ্জনক ভাবে অনেকেই লাইনের পাশে বসে বা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অনেককে দেখা গেল, রেললাইন বরাবর হেঁটে যাতায়াত করছেন। শিশুরাও দৌড়ঝাঁপ করছে। এক মহিলা দুপুরে স্নান সেরে লাইনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এ ভাবে লাইনের ধারে দাঁড়ালে বিপদ হবে না? মহিলার জবাব, “আমরা এ ভাবে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। ভয়ের কিছু নেই।”

শিশুদের ঝুঁকি এ ক্ষেত্রে বেশি। অনেকেই জানালেন, অনেক পরিবারেই বাবা-মায়েদের সন্তানদের বাড়িতে রেখে কাজে যেতে হয়। সন্তানদের উপরে সব সময়ে নজর রাখা সম্ভব হয় না। এক মহিলা বলেন, “আমরা বাড়ি না থাকলে ছেলেমেয়েদের ভাল করে বুঝিয়ে বলে যাই, তারা যেন লাইনের কাছে না যায়।” তবে এত কিছুর মধ্যেও শিশুরা লাইনের কাছে চলে আসে।

ইদানীং নির্জন রেললাইন এলাকায় যুবকেরা ভিড় করেন। গল্প করেন। মোবাইল গেম খেলেন। নেশা করতেও দেখা যায়। বাসিন্দারা নিষেধ করেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরে কয়েক দিন সে সব বন্ধ থাকলেও ফের শুরু হয়ে যায়।

বনগাঁ জিআরপি থানার তরফে মাঝে মধ্যে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রেলপাড়ের মানুষকে সচেতন করা হয়। বনগাঁ জিআরপি ওসি রূপসিনা পরভীন বলেন, “সপ্তাহে দু’দিন আমরা নিয়ম করে মানুষকে সচেতন করতে কর্মসূচি পালন করি। ব্যানার নিয়ে হাঁটা, মাইকে প্রচার চলে। পাশাপাশি, রেললাইন এলাকায় নজরদারি চালানো হয়। তারপরেও কিছু মানুষের মধ্যে সচেতনতার বালাই নেই।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement