(বাঁ দিকে) হোটেল থেকে গ্রেফতার বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে (ডান দিকে) —নিজস্ব চিত্র।
আরও দুই তৃণমূল নেতা গ্রেফতার! এ বার ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা।
বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৮০ লক্ষ টাকা এবং কয়েক বান্ডিল সরকারি ত্রিপল। পাথরপ্রতিমায় তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি গৌতম আড়ির বাড়ি থেকেও বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। তাঁকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। কয়েক দিন পুরসভায় অনুপস্থিত ছিলেন দীপঙ্কর। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে সোমবার রাতে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। তার আগে তৃণমূলের একটি কার্যালয় এবং একটি বাগানবাড়ি থেকে প্রায় ৪ হাজার সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই প্রেক্ষিতে পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয় থানায়। একটি অভিযোগ করে সিপিএম, অন্যটি বিজেপি। ঘটনাক্রমে রাতেই দীপঙ্করকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে নগদ ৮০ লক্ষ টাকা এবং ত্রাণের জন্য সরকার থেকে দেওয়া ত্রিপল পাওয়া গিয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্রে খবর, দীপঙ্কর একটি হোটেলে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। তাঁর কাছে পোশাকভর্তি দু’টি ব্যাগ পাওয়া গিয়েছে। তাতে ওষুধপত্র ছিল। জিনিসপত্র দেখে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘ দিন গা-ঢাকা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিলেন দীপঙ্করের। মঙ্গলবারই তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে হাজির করানো হচ্ছে।
অন্য দিকে, পাথরপ্রতিমার দূর্বাচটি গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি গৌতমের বাড়ি থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারে শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। বিজেপি এবং স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বাড়ির গুদামে দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি ত্রাণ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের সামগ্রী লুকিয়ে রেখেছিলেন গৌতম। সোমবার রাতভর তৃণমূলের ওই জনপ্রতিনিধির বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ থেকে ব্লক অফিসের আধিকারিকেরা। প্রশাসনের উপস্থিতিতে ঘর খুলে উদ্ধার হয় কম্বল, ত্রিপল, পান-বরজের চট, মাছের খাবার-সহ নানা সরকারি সামগ্রী। সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে তৃণমূল অঞ্চল সভাপতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ওই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই জেলায় শোরগোল শুরু হয়েছে।