Nadia Death Case

ভোট-পরবর্তী হিংসায় তৃণমূলকর্মীর পুত্রকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ! আঙুল বিজেপির দিকে, তদন্তে পুলিশ

মৃত যুবকের বাবা সমীর সরকার এবং মা শিউলি সরকার, দু’জনেই সক্রিয় তৃণমূলকর্মী। তাঁদের পুত্র সক্রিয় ভাবে রাজনীতি করেননি বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১৩:১২
Share:

২৪ বছরের পাপাই সরকারের মৃত্যু নিয়ে শোরগোল গয়েশপুরে। ছবি: সংগৃহীত।

ভোট-পরবর্তী হিংসায় তৃণমূলকর্মী এক দম্পতিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল নদিয়ার গয়েশপুর পুরসভা এলাকায়। সোমবার থেকে এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

Advertisement

গয়েশপুরের কুলিয়াপাট ঠাকুরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা পাপাই সরকারের বয়স মাত্র ২৪ বছর। পরিবার সূত্রে খবর, দিন ছয়েক আগে দুপুরবেলা তাঁকে রাস্তায় বেধড়ক মারধর করা হয়। কোনও রকমে দুষ্কৃতীদের হাত থেকে পালিয়ে বাড়ি ফেরেন। তার পর সন্ধ্যায় বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তার খানিক পরে বাড়িতে খবর যায়, রাস্তার ধারে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন পাপাই।

যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কল্যাণী মেডিক্যাল কলেজ থেকে কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। রবিবার সেখান থেকে কল্যাণী এমসে স্থানান্তরিত করা হচ্ছিল। কিন্তু রাস্তাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। মৃতের বাবা সমীর সরকার এবং মা শিউলি সরকার, দু’জনেই সক্রিয় তৃণমূলকর্মী। তাঁদের পুত্র সক্রিয় ভাবে রাজনীতি করেননি বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। গয়েশপুরের একটি কারখানার শ্রমিক সমীরের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই খুন হয়েছেন তাঁর পুত্র। তৃণমূল কর্মী বলেন, ‘‘আমার ছেলেকে পিটিয়ে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে দুর্ঘটনা বলে চালাতে চাইছিল বিজেপির লোকজন। আসলে খুন করা হয়েছে ওকে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বাইকটা রাস্তার ধারে দাঁড় করানো ছিল। বাইকের চাবি ছেলের পকেটে ছিল। শরীরে তো দুর্ঘটনার কোনও চিহ্ন ছিল না। বাইকেও একটা আঁচড়ের দাগ নেই। এটা কেমন দুর্ঘটনা? দুর্ঘটনা হলে তো বাইকের ক্ষতি হত। পাপাইয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকত। কিছুই নেই!’’

Advertisement

পুত্রহারা তৃণমূলকর্মীর অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে তাঁদের হুমকি দিচ্ছিল বিজেপি। তিনি বলেন, ‘‘আমি বাজারে গিয়েছিলাম, পিছন থেকে ইট ছুড়ে মারা হয়েছে। আমরা বাড়ি থেকে বার হলেই ফোন করে একে-ওকে ডাকছে। আমাকে বলা হয়েছিল, ছেলেকে ঘর থেকে বার করে খুন করা হবে। সে জন্য ছেলেকে কিছু দিন বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। পরে বিজেপির লোকজনই বলল, ‘যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। ছেলেকে ফিরিয়ে আনো।’ সেই কথায় আশ্বস্ত হয়ে পাপাইকে বাড়ি আসতে বলি। তার পর এই ঘটনা...।’’ অন্য দিকে, পুত্রশোকে মাঝেমাঝেই সংজ্ঞা হারাচ্ছেন শিউলি।

সোমবার কল্যাণী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। কল্যাণী মেডিক্যাল কলেজে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। রানাঘাট পুলিশ জেলার সুপার আশিস মৌর্য বলেন, ‘‘অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে।’’

যদিও হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। কল্যাণীর বিজেপি বিধায়ক অনুপম বিশ্বাস বলেন, ‘‘আমার এই বিষয়টি জানা নেই। পুলিশ নিশ্চয়ই দেখছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement