Dubrajpur TMC Yuva Leader

‘পদ ছাড়ছি’, সকালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘোষণা তৃণমূল কাউন্সিলরের! কাঁদতে কাঁদতে জানালেন, আর দলই করবেন না!

মঙ্গলবার সাতসকালে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সাগর কুন্ডু বলে এসেছেন, তৃণমূলের সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাঁর। এখন থেকে তিনি ওয়ার্ডের প্রাক্তন পুরপিতা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১১:২২
Share:

দুবরাজপুরের কাউন্সিলর তথা যুব তৃণমূল নেতা সাগর কুন্ডুকে জড়িয়ে কান্না অনুগামীদের। —নিজস্ব চিত্র।

চোখে জল। কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসছে। কোনও রকম নিজেকে সামলে তিনি জানালেন, আর তৃণমূল করবেন না। অনুব্রত মণ্ডল-কাজল শেখের জেলার তৃণমূল কাউন্সিলর সাগর কুন্ড়ু শুধু পুরসভার পদই ছাড়ছেন না, যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। বলছেন, তৃণমূলের সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাঁর। সে কথা এলাকায় গিয়ে জনে জনে বলে বেড়ালেন সাগর। পদত্যাগী যুবনেতা তথা কাউন্সিলর বলছেন, কঠিন হলেও এই সিদ্ধান্ত তাঁকে নিতেই হল।

Advertisement

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব পড়েছে পুরসভাগুলিতে। একের পর এক পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর ইস্তফা দিচ্ছেন। ফলে পুরসভাগুলিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বীরভূমের দুবরাজপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সাগর প্রথমে সমাজমাধ্যমে এবং পরে জনসমক্ষে দলীয় এবং কাউন্সিলরের পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার সাতসকালে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সাগর বলে এসেছেন, তৃণমূলের সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাঁর। এখন থেকে তিনি ওয়ার্ডের প্রাক্তন পুরপিতা।

দুবরাজপুরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন সাগর। তাঁর কথায়, ‘‘আর কাউন্সিলর পদে থাকছি না। একই সঙ্গে শহর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদও ছাড়ছি।’’ শুধু পদত্যাগই নয়, তৃণমূলের সঙ্গে ‘সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন’ করছেন বলে জানিয়েছেন ওই যুবক। তবে দল এবং পদ ছাড়লেও সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন বলেও জানান। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কি শুধুই রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতা হারিয়েছে বলে? সাগরের ঘুরিয়ে জবাব, ‘‘এমন দিন দেখতে হবে তা হয়তো কোনও দিন ভাবিনি। তবে মানুষের রায়ই শেষ কথা।’’

Advertisement

সাগরের ‘আকস্মিক সিদ্ধান্ত’ নিয়ে দুবরাজপুরের তৃণমূল বিধায়ক অনুপকুমার সাহা এখনই কিছু বলতে নারাজ। তিনি বলছেন, সরকারি ভাবে ইস্তফা দিলে তার পর দেখা যাবে। বিধায়কের কথায়, ‘‘দুবরাজপুর পুরসভার যে সমস্ত কাজ হয়েছে, তার নিরিখে প্রত্যেক কাউন্সিলরের দিকে কড়া নজর রাখা হবে। কেউ কোথাও কোনও দুর্নীতি করে থাকলে রেয়াত করা হবে না।’’ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের খোঁচা, তৃণমূল দলই উঠে যাওয়ার উপক্রম। আর সেই দলে থেকে কে কী করবেন? তাই যা হওয়ার তা-ই হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement