BJP Worker Suvendu

আগে বিজেপি কর্মী, তার পরে মুখ্যমন্ত্রী! দিনভর ব্যস্ততা সত্ত্বেও রাতের বৈঠকে শুভেন্দু ফের পার্টি অফিসে, দলকে নিষ্ঠার বার্তা

সোমবার রাত ৯টা থেকে বিজেপির ওই বৈঠকটি শুরু হয়। দলের রাজ্য পদাধিকারীরা, জেলা সভাপতিরা, জেলা ইনচার্জরা এবং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতা-নেত্রী আমন্ত্রিত ছিলেন। ছিলেন কয়েক জন কেন্দ্রীয় নেতাও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১৩:৪৯
Share:

শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

সোমবার গোটা দিন তাঁর ছিল ঠাসা কর্মসূচি। সকালে সেক্টর ফাইভে বিজেপি দফতরে ‘জনতার দরবার’। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নবান্নে একের পর এক প্রশাসনিক বৈঠক। তার পরেও রাতে ফের দলীয় দফতরে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নরেন্দ্র মোদীর সরকারের দ্বাদশ বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপনের পরিকল্পনা নিয়ে বিশদে বৈঠক করলেন দলের নেতৃত্বের সঙ্গে। আর সেই বৈঠকেই দিলেন দল তথা সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠার বার্তা। মুখ‍্যমন্ত্রী হয়েছেন বলে দলের কাজকে পিছনের সারিতে ঠেলে দেবেন, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই, বৈঠকে নিজের বক্তব্যে তেমনটাই বুঝিয়ে দিলেন শুভেন্দু।

Advertisement

সোমবার রাত ৯টা থেকে বিজেপির ওই বৈঠকটি শুরু হয়। আমন্ত্রিত ছিলেন দলের রাজ্য পদাধিকারীরা, জেলা সভাপতিরা, জেলা ইনচার্জরা এবং আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতা-নেত্রী । ছিলেন কয়েক জন কেন্দ্রীয় নেতাও। সকলে কলকাতায় না-থাকায় ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন হয়েছিল। ফলে অন্য জায়গা থেকে বৈঠকে যোগ দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বিধাননগরের দলীয় কার্যালয়েই চলে যান। রাজ‍্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সতীশ ঢোন্ড, সাধারণ সম্পাদক (কার্যালয়) শশী অগ্নিহোত্রী তখন সেখানেই ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে একই ফ্রেমে বৈঠকে শামিল হন শুভেন্দু।

২০১৪ সালের ৭ জুন প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর সরকারের ১২ বছর পূর্তি গোটা দেশ জুড়ে উদ্‌যাপন করবে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে ৫ জুন থেকে সেই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে বিজেপি সূত্রের খবর। সে দিন সারা রাজ্যে বিজেপি নেতা-কর্মীরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করবেন। জুনের মাঝামাঝি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করতে দিন তিনেকের শিবির আয়োজিত হতে পারে। গত ১২ বছরে মোদী সরকার কোন কোন উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে, কোন কোন ক্ষেত্রে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন এনেছে, কত রকমের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করেছে, জুন মাস জুড়ে তার নিবিড় প্রচার চলবে। সোমবার রাতের বৈঠকে দিল্লির প্রতিনিধি বিনোদ সোনকর বা রাজ‍্য বিজেপির সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী সে সব পরিকল্পনা বিশদে তুলে ধরেন। তাঁদের কথা শেষ হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী ভাষণ দেন। সেই ভাষণেই দল তথা সংগঠনের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসাবে নিজের পরিচয়ের উপরে শুভেন্দু জোর দেন।

Advertisement

‘জনতার দরবার’-এ হাজির থাকতে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় শুভেন্দু পার্টি অফিসে হাজির হয়েছিলেন। রাত সাড়ে ৯টাতেও যে ফের তিনি পার্টি অফিসেই বৈঠকে রয়েছেন, সে কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “আমি আগে বিজেপি কার্যকর্তা, তার পরে মুখ্যমন্ত্রী।’’ সেই প্রসঙ্গেই দলের নেতৃত্ব তথা পদাধিকারীদের এই বলে আশ্বস্ত করেন যে, দলের কাজ বা দলের দেওয়া যে কোনও দায়িত্ব এখনও তাঁর কাছে অগ্রাধিকার।

সপ্তাহের প্রথম দিন হওয়ায় সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কর্মসূচি ছিল ঠাসা। সকালে দলীয় কার্যালয়ে জনতার দরবার সেরে তিনি নবান্নে যান। সেখানে ৩৪টি দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। এখনও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত না-হওয়ায় অধিকাংশ দফতরই মুখ্যমন্ত্রীর হাতে রয়েছে। নতুন মন্ত্রীরা আসার আগে কোন বিভাগের পরিস্থিতি কেমন, তা বিশদে বুঝে নেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে নবান্নেই তিনি দেখা করেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক তথা আরজি করের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথের সঙ্গে। সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার ‘সৌজন‍্য’ প্রেক্ষাগৃহে আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদের জন‍্য আয়োজিত নৈশভোজের কর্মসূচিতে শামিল হন। সে সব সেরে রাত ৯টা নাগাদ ফের পৌঁছে যান বিধাননগরের দলীয় কার্যালয়ে। সকালে হোক বা রাতে, দল যখনই ডাকবে, তিনি হাজির হবেন, সে বার্তা তো শুভেন্দু দিয়েছেনই। অন‍্য নানা ব‍্যস্ততা থাকলেও, দলের কাজের জন‍্য সকলকেই যে সময় বার করতে হবে, সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী সে কথাও বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন বলে বিজেপির অনেকে মনে করছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement