বাসন্তী বিধানসভায় এবার তৃণমূল প্রার্থী করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রি বিশালকে। কিন্তু এই কেন্দ্রেই ভোটে দাঁড়িয়েছেন এলাকার আরও দুই পরিচিত তৃণমূল নেতা— বাসন্তী পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ গৌরী নস্কর এবং আমঝাড়া পঞ্চায়েতের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি অসীম সর্দার। দু’জনেই নির্দল হিসেবে লড়ছেন। তা হলে দলের অন্দরে ফাটলের নিদর্শন? তৃণমূল সূত্রে অবশ্য খবর, দলের নির্দেশেই ওই দুই নেতা নির্দল হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। বিরোধীদের দাবি, এটা শাসকদলের ভোট লুটের কৌশল।
বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবার টিকিট পাননি বিদায়ী বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল মণ্ডল। সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে গোসাবার বাসিন্দা নীলিমাকে। এলাকায় তৃণমূল সমর্থক হিসেবে পরিচিত নিতাই সর্দার, মোকাব্বেল শেখেরা বলেন, “নীলিমাদি তো আমাদের প্রার্থী, তা হলে আবার কেন নেতারা ভোটে দাঁড়ালেন! বিষয়টা বুঝতে পারছি না।”
এর পিছনে অনেকেই দলীয় কোন্দলের কথা বলছেন। তবে বাসন্তীর তৃণমূল নেতা রাজা গাজি বলেন, “নির্বাচনে জিততে সব দলেরই তো একটা নিজস্ব নীতি থাকে। যাঁরা নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁরাও তৃণমূলকেই ভোট দেবেন।” তা হলে কেন ভোটে দাঁড়ালেন তৃণমূলের নেতারা? রাজা বলেন, “প্রত্যেকেরই নির্বাচনে লড়াইয়ের অধিকার রয়েছে। ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। বিজেপির নেতাদের এখনও রাজনীতি শিখতে হবে আমাদের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে।”
বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সঞ্জয় নায়েক বলেন, “এটা হল তৃণমূলের পরিকল্পিত ভোট লুটের কৌশল। অবাধ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট হলে তৃণমূল নিশ্চিতভাবে পরাজিত হবে। তাই পরাজয় রুখতে এবং বুথ দখল করতে নির্দল প্রার্থীর এজেন্টকে বুথের ভিতর ব্যবহারের জন্যই এই কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। কমিশনকে বলব বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে।”
গৌরী বা অসীম অবশ্য এ ব্যাপারে বিশেষ কিছু বলতে চাননি। তাঁদের ছোট্ট প্রতিক্রিয়া, “যা করেছি দলের নির্দেশেই করেছি।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে