ধৃত মৌসুমী।
একরত্তি মেয়ে ঘরের মধ্যে বাথরুম করে ফেললেই চলত মার। নিজেকেই পরিষ্কার করতে হবে। না পারলে মিলত লাঠির বাড়ি। পান থেকে চুন খসলেই জুটত মার। এমনকী, অন্ধকার ঘরে চার বছরের মেয়েকে সারা দিন তালা বন্ধ করে চলে যেত মা।
দিনের পর দিন মেয়েটির আর্তনাদে আর চুপ থাকতে পারেননি প্রতিবেশীরা। বুধবার রাতে ওই মহিলার বাড়িতে চড়াও হন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ক্যানিং মহিলা থানার ওসি মুনমুন চৌধুরী। গ্রেফতার করা হয় মৌসুমী মণ্ডল নামে শিশুর মাকে। বৃহস্পতিবার বাচ্চাটিকে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ক্যানিঙের তাঁতকল মোড় এলাকার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, কয়েক বছর আগে বাসন্তীর রাধাবল্লভপুরের বাসিন্দা সুব্রত মণ্ডল ও মৌসুমী ওই এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। তাঁদের তিন ছেলেমেয়ে। সুব্রতবাবু মুম্বইতে কাজ করেন। মাস তিনেক আগে ওই শিশু কন্যাকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন সুব্রতবাবু। পড়শিদের জানান, বাচ্চাটিকে দত্তক নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, তিনি চলে যাওয়ার পর থেকে ওই একরত্তি শিশুর উপরে অত্যাচার শুরু হয়। কান্নাকাটি করলে তার মুখ চেপে ধরে পেটানো হতো বলে অভিযোগ। প্রতিবেশী বন্দনা মণ্ডল ও বুলু দে বলেন, ‘‘এমন ভাবে শিশুকে মারধর করা হতো যে আমরা পাশে থেকে সহ্য করতে পারতাম না।
ওইটুকু দুধের শিশুকে লাঠি, কঞ্চি দিয়ে পেটানো হতো।’’
পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির সারা শরীরে মারের কালশিটে দাগ রয়েছে। চোখের পাশেও কাটা দাগ আছে। মৌসুমী পুলিশকে জানিয়েছে, তার স্বামীর অন্য কোনও মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের জেরেই এই শিশুটির জন্ম হয়েছে ধরে নিয়ে সে শিশুটির উপরে অত্যাচার করত।
সপ্তাহখানেক আগে শিশুকে মারধরের অভিযোগে বিধাননগর পুরসভার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে দত্তাবাদের সবুজ সঙ্ঘ নামের একটি ক্লাবের কাছ থেকে শুকদেব দাস এবং দিপালী দাস নামে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়। জামিনে মুক্তি পেলেও মামলা চলছে। এ দিন অবশ্য মৌসুমীকে আলিপুর কোর্টে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হাজতের নির্দেশ দেন। ওই শিশুটিকে আইনি পথে দত্তক নেওয়া হয়েছিল কিনা, তা খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। যোগাযোগ করা হচ্ছে সুব্রতবাবুর সঙ্গেও।