স্কুলেই স্বচ্ছন্দ ‘মিতুদি’

তিন তিন বার কলেজের চাকরি পেয়েও যোগ দেননি। কারণ স্বপ্ন ছিল, নিজের স্কুলে পড়াবেন।

Advertisement

নির্মল বসু

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০১৭ ০১:৫৫
Share:

পাঠ: বাড়িতে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে মিতুদি। নিজস্ব চিত্র

তিন তিন বার কলেজের চাকরি পেয়েও যোগ দেননি। কারণ স্বপ্ন ছিল, নিজের স্কুলে পড়াবেন।

Advertisement

বসিরহাটের মির্জাপুরের বাসিন্দা পদার্থবিদ্যার সেই শিক্ষিকার নাম চন্দ্রা মিত্র। এলাকায় ‘মিতুদি’ নামেই সকলে চেনে তাঁকে। শিক্ষকতা ছাড়াও বাড়িতে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীর বিনা বেতনে পড়ান।

চন্দ্রাদেবী জানান, ১৯৯০ সালে তিনি জীবনবিমায় চাকরি পেয়েছিলেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে, ১৯৯৩ সালে হরিমোহন দালাল বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। স্কুলের শিক্ষকতা করতে করতেই কলেজ সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে সফল হন। তিন বার তিনটি কলেজে চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কোনও কলেজেই যোগ দেননি। কারণ, নিজের স্কুলের প্রতি তাঁর ভালবাসা।

Advertisement

বছর আটচল্লিশের চন্দ্রাদেবীর প্রেরণা বসিরহাটের পদার্থবিদ্যার শিক্ষক সুভাষ কুণ্ডু। যিনি ছাত্রছাত্রীদের বিনা বেতনে পড়ানোর সঙ্গেই বাড়িতেই গবেষণাগার তৈরি করেছেন। সুভাষবাবুর সেই গবেষণাগারে কাজ করেছেন চন্দ্রাদেবী। সুভাষবাবুর কথায়, ‘‘ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে পড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই চন্দ্রা বাড়িতেও বিনা বেতনে পড়ান। এটি সত্যিই দৃষ্টান্ত।’’

তিনি জানান, হরিমোহন দালাল বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করে তিনি বসিরহাট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক দেন। পদার্থবিদ্যা নিয়ে বসিরহাট কলেজ থেকে স্নাতক হন। স্নাতকোত্তর করেন কলকাতার রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ থেকে।

বিয়ে করেননি চন্দ্রাদেবী। বাড়িতে রয়েছেন মা। বাড়িতে তিনটি ঘরই অগোছালো। তাঁর ছাত্র দেবজ্যোতি দেওয়ান, শুভম হালদার, ছাত্রী অর্পিতা পাইনের কথায়, ‘‘আমাদের পরীক্ষার সময়ে ম্যাডাম অতিরিক্ত সময় দিয়ে পড়ান। তখন তিনি আমাদের রান্না করে খাওয়ান।’’ চন্দ্রাদেবীর স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘স্কুলের পিছিয়ে পড়া ছাত্রীদের বাড়তি ক্লাস নিয়ে তাঁদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেন। সেটা খুবই জরুরি।’’

সব শুনে চন্দ্রাদেবীর ছোট্ট প্রতিক্রিয়া, ‘‘কী এমন করেছি! আমি যা করছি সেটা সব শিক্ষক-শিক্ষিকারই করা উচিত।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement