অপহরণের গল্প ফেঁদেও গ্রেফতার

অপহৃতের খোঁজ করতে বেরিয়েছিল পুলিশ। যখন ফিরল, জানা গেল, ততক্ষণে ‘অপহৃত’ যুবকটি প্রতারণার অভিযোগে ধরা পড়েছে রেলপুলিশের হাতে! পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বসিরহাটের ইটিন্ডার আখারপুর গ্রামে থাকেন অমিতাভ ঘোষ ওরফে অমিত।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৪১
Share:

অপহৃতের খোঁজ করতে বেরিয়েছিল পুলিশ। যখন ফিরল, জানা গেল, ততক্ষণে ‘অপহৃত’ যুবকটি প্রতারণার অভিযোগে ধরা পড়েছে রেলপুলিশের হাতে!

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বসিরহাটের ইটিন্ডার আখারপুর গ্রামে থাকেন অমিতাভ ঘোষ ওরফে অমিত। পরিবারের লোকজনের দাবি, তিনি কাজ করেন ব্যারাকপুরের একটি সংস্থায়। শুক্রবার বিকেলে তাঁর স্ত্রী টুম্পা বসিরহাট থানায় কাঁদতে কাঁদতে আসেন। জানান, বৃহস্পতিবার বাড়ি ফেরেননি স্বামী। দুপুরের পর থেকে বার বার ফোন আসছে। বলা হচ্ছে, কিছু লোক অপহরণ করেছে তাঁর স্বামীকে। ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চায়। স্বামীও কয়েক বার ফোন করেছেন। তিনিও বলেছেন একই কথা। শেষমেশ আড়াই লক্ষ টাকায় রফা হয়েছে। টাকা না পেলে খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

লিখিত অভিযোগ পেয়ে সাদা পোশাকের পুলিশের একটি দল বেরিয়ে পড়ে এ দিন বিকেলে। ‘অপহরণকারী’রা কখনও বলে বেড়াচাঁপায় আসতে, কখনও ডাকে দেগঙ্গায়। এ ভাবে বেশ খানিকক্ষণ ঘুরতে ঘুরতে পুলিশ মোবাইল টাওয়ারের সূত্র ধরে জানতে পারে, বারাসত স্টেশনের আশপাশে আছেন অমিত। সেই মতো পুলিশ পৌঁছয় বারাসতে।

Advertisement

কাছাকাছি পৌঁছে পুলিশ বুঝতে পারে, রেল পুলিশের একটি ঘর থেকে ফোন আসছে। সেখানে গেলে জানা যায়, চাকরির নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগে অমিতকে ধরেছে রেল পুলিশ।

রেল পুলিশের দাবি, বারাসত স্টেশন এলাকায় রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করে একটি প্রতারণা চক্র গড়ে উঠেছে। যার পান্ডা অমিত। রেলে সুপার ভাইজারের চাকরি দেওয়ার নাম করে কারও কাছ থেকে ৫০ হাজার, কারও কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিত দলটি। তারপরেই বেপাত্তা হয়ে যেত। প্রতারিত কয়েকজন যুবক এ দিন বারাসত স্টেশনে ধরে ফেলে অমিতকে। শুরু হয় গণধোলাই। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করে ওই ব্যক্তিকে। চাদের টাকা ফেরত দিতেই স্ত্রীকে ফোন করে অপহরণের গল্প ফাঁদে অমিত। তার কাছ থেকে যারা টাকা পেত, তাদেরও কেউ কেউ ফোন করে থাকতে পারে।

অমিতকে শুক্রবার বারাসত এসিজেএমের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে পাঠানো হয় ছ’দিনের রেলপুলিশের হেফাজতে।

বারাসত জিআরপির ওসি দীপক পাইক বলেন, ‘‘রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা নিত অমিত। গাইঘাটার মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা রণজিৎ দাসের কাছে থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিল। তার কাছে আরও এক লাখ টাকা চাওয়া হয়। সেই টাকা নিতে এসেই ধরা পড়েছে প্রতারক। রণজিতের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিকেলে অমিতকে গ্রেফতার করা হয়।’’

টুম্পা অবশ্য বলেন, ‘‘আমার স্বামীকে ধরলে পুলিশ তো মোবাইল নিয়ে নেবে। সে কী ভাবে পুলিশের জিম্মায় বসে অপহরণের গল্প বলছিল? ওঁকে চক্রান্ত করে ফঁাসানো হচ্ছে।

প্রতারকের পরিবার থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি রেল পুলিশের।

আপাতত দু’টি মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে এই ঘটনায়। বসিরহাট থানায় অপহরণের মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। অন্য দিকে, প্রতারণার মামলা চালাচ্ছে রেলপুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement