আগুনে পুড়ে মৃত্যু বাবা-ছেলের

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল বাবা ও ছেলের। বৃহস্পতিবার হরিণঘাটার বালিন্দির ঘটনা। মৃতেরা হলেন রমেশ মাণ্ডি (৩৫) ও পবন মাণ্ডি (২)। এ দিন সন্ধ্যায় রমেশবাবু এবং তাঁর ছেলে পবনকে ঘরের দরজা ভেঙে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন প্রতিবেশীরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০১৫ ০১:২২
Share:

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল বাবা ও ছেলের। বৃহস্পতিবার হরিণঘাটার বালিন্দির ঘটনা। মৃতেরা হলেন রমেশ মাণ্ডি (৩৫) ও পবন মাণ্ডি (২)। এ দিন সন্ধ্যায় রমেশবাবু এবং তাঁর ছেলে পবনকে ঘরের দরজা ভেঙে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন প্রতিবেশীরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। হরিণঘাটার বালিন্দির এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রমেশবাবুর ঘর থেকে একটি কেরোসিনের জার পাওয়া গিয়েছে। প্রথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ছেলেকে নিয়ে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন।

Advertisement

বালিন্দির বাসিন্দা রমেশবাবু পেশায় চাষি। তাঁর স্ত্রী সুলতি মাণ্ডি পেশায় নার্স। বর্তমানে তিনি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে কর্মরত। রমেশবাবু স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকতেন। সুলতিদেবী বেশিরভাগ সময় কলকাতায় হস্টেলে থাকতেন। রমেশবাবু সুলতিদেবীর দ্বিতীয় স্বামী। বছর আড়াই আগে অপরিণত অবস্থায় জন্ম হয় পবনের। সুলতিদেবীর দাদা শ্যাম মুর্মু জানান, পবনের শারীরিক গঠন অসম্পূর্ণ ছিল। পরে চিকিৎসকদের থেকে জানতে পারেন, পবনের মানসিক বিকাশও স্বাভাবিক নয়। তারপর থেকে রমেশবাবু হতাশায় ভুগতে শুরু করেন। যদিও ইদানীং চিকিৎসায় পবনের শারীরিক উন্নতি হচ্ছিল। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রমেশবাবু বাড়ি থেকে বিশেষ বেরোতেন না। নিজেই রান্নাবান্না করে খেতেন। সব সময় ছেলের সঙ্গে থাকতেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তাঁরা দেখেন, রমেশবাবুর শোওয়ার ঘর থেকে ধোঁয়া বেরচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরও কোনও সাড়া না পেয়ে তাঁরা দরজা ভেঙে ফেলেন। দেখা যায়, দু’জনকেই আগুনে পুড়ে গিয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে হরিণঘাটা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা সেখানে তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

Advertisement

মৃতের স্ত্রী সুলতিদেবী বলেন, ‘‘সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ আমাকে একজন ফোন করে খবর দেন। গাড়ির ব্যবস্থা করে ফিরতে ফিরতে রাত প্রায় ১০টা বেজে যায়। এসে দেখি সব শেষ।’’ তিনি জানান, তাঁদের মধ্যে কোনও অশান্তি ছিল না। কোনও গোলমালও হয়নি। রমেশবাবু সবসময় চুপচাপ থাকতেন। ছেলের জন্য খুব চিন্তা করতেন। দেহ দু’টি ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement