ক্ষতিপূরণের ফর্ম নিয়ে অশান্তি

অতিবৃষ্টিতে ডুবেছে চাষের জমি। জেলার কিছু ব্লকে চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার থেকে ফর্ম বিলি শুরু করেছে কৃষি দফতর। কিন্তু প্রথম দিনেই ফর্ম তোলা নিয়ে অশান্ত হয়ে উঠল ক্যানিং ২ ও জয়নগর-১ ব্লক অফিস চত্বর। এ দিন লাইনে দাঁড়ানো সবাইকে ফর্ম দিতে হবে, এই দাবিতে শুরু হয় বচসা। ক্যানিংয়ে ভাঙচুর হয় পুলিশ এবং বিডিও-র গাড়ি। আহত হলেন ৩ জন পুলিশকর্মী। ক্যানিংয়ে পুলিশের লাঠিতে কয়েক জন চাষিও আহত হন বলে অভিযোগ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ অগস্ট ২০১৫ ০১:২৪
Share:

ভাঙচুর হওয়া পুলিশের গাড়ি। ছবি: সামসুল হুদা।

অতিবৃষ্টিতে ডুবেছে চাষের জমি। জেলার কিছু ব্লকে চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার থেকে ফর্ম বিলি শুরু করেছে কৃষি দফতর।
কিন্তু প্রথম দিনেই ফর্ম তোলা নিয়ে অশান্ত হয়ে উঠল ক্যানিং ২ ও জয়নগর-১ ব্লক অফিস চত্বর। এ দিন লাইনে দাঁড়ানো সবাইকে ফর্ম দিতে হবে, এই দাবিতে শুরু হয় বচসা। ক্যানিংয়ে ভাঙচুর হয় পুলিশ এবং বিডিও-র গাড়ি। আহত হলেন ৩ জন পুলিশকর্মী। ক্যানিংয়ে পুলিশের লাঠিতে কয়েক জন চাষিও আহত হন বলে অভিযোগ।
ব্লক প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার থেকে ক্যানিং ২ ব্লক অফিসের উল্টো দিকে কমিউনিটি হল থেকে ফর্ম বিলি শুরু হয়। ব্লকের মোট ৯টি পঞ্চায়েত এলাকা থেকে প্রায় আট হাজার চাষি ফর্ম নিতে জড়ো হয়েছিলেন। ফর্ম দেওয়ার জন্য প্রত্যেকের ব্যাঙ্কের বই, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, জমির দলিল ও পড়চা দেখা হচ্ছিল। বিকেল অবধি মাত্র ৭০০ জন ফর্ম পান।
এর পরে ব্লকের কর্তারা জানিয়ে দেন, এ দিন আর ফর্ম দেওয়া হবে না। তবে আগামী ২৮ অগস্ট পর্যন্ত ফর্ম দেওয়া চলবে। এই কথা শুনেই চাষিরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ দিনই ফর্ম দিতে হবে, এই দাবি তুলে বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশের গাড়ি লক্ষ করে ইট ছোড়া হয়। পুলিশ পাল্টা লাঠি চালায় বলে অভিযোগ।

Advertisement

যে কমিউনিটি হল থেকে এ দিন ফর্ম বিলি হচ্ছিল, তার উল্টো দিকেই থানা এবং ব্লক অফিস। চাষিদের একাংশ সেখানে গিয়েও বিক্ষোভ দেখান। বিডিও-র গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। আহত হন তিন পুলিশকর্মী। ঘটনাস্থলে আসেন ক্যানিংয়ের সিআই রতন চক্রবর্তী এবং এসডিপিও সৌম্য রায়। তবে রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত চলছে।

ক্যানিং ২ বিডিও সিরাজ ইব্রাহিম লাখানি বলেন, ‘‘ফর্ম দেওয়া নিয়ে অশান্তি হয়েছে। এ দিন যারা ফর্ম পাননি, তাঁদের কী ভাবে ফর্ম দেওয়া যায়, সেটা দেখা হচ্ছে।’’ ক্যানিং ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সওকত মোল্লার দাবি, একই সঙ্গে কয়েক হাজার চাষি ফর্ম তুলতে এসেছিলেন। কারা আগে ফর্ম তুলবেন, তা নিয়ে হাতাহাতি হয়। তিনি বলেন, ‘‘অশান্তি এড়াতে শুক্রবার থেকে ব্লকের প্রতিটি পঞ্চায়েত অফিসে সরকারি কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের রেখে ফর্ম দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।’’

Advertisement

অতিবৃষ্টির কারণে জয়নগর ১ ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেশির ভাগ চাষের জমি এখনও জলমগ্ন। ক্ষতিপূরণের দাবিতে চাষিরা বিডিও এবং‌ সহ-কৃষি অধিকর্তার কাছে আবেদন করেছিলেন। ফর্ম পেতে বুধবার রাত থেকেই লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছিল। এ দিন বেলা পৌনে ১১টা নাগাদ কৃষি আধিকারিক অফিসে ঢোকার সময়ে সেই লাইনে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কিছু চাষির অভিযোগ, লাইন ঠিক করার নামে পুলিশ লাঠি চালিয়েছে। তবে পুলিশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ব্লকের সহ-কৃষি অধিকর্তা দীপ মণ্ডল বলেন, ‘‘পুলিশ লাঠি চালায় নি। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের মধ্যে ১৩,৮০০টি ফর্ম বিলি করা হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement