বসিরহাট

খোঁজ নেই ছাত্রের, দুশ্চিন্তায় পরিবার

আবাসিক মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয়ে গেল এক কিশোর।৩০ জানুয়ারি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। শাসনের ফলতি গ্রামের বাসিন্দা সাহাদাত মল্লিকের চোদ্দো বছরের ছেলে সাহারুল বসিরহাট আমিনিয়া মাদ্রাসায় থাকত।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:৫৯
Share:

সাহারুল মল্লিক। নিজস্ব চিত্র।

আবাসিক মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয়ে গেল এক কিশোর।

Advertisement

৩০ জানুয়ারি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। শাসনের ফলতি গ্রামের বাসিন্দা সাহাদাত মল্লিকের চোদ্দো বছরের ছেলে সাহারুল বসিরহাট আমিনিয়া মাদ্রাসায় থাকত। ২৪ জানুয়ারি সাহারুলকে তার বাবা ওই মাদ্রাসায় পৌঁছে দেন। ওই দিনই মাদ্রাসায় সাহারুল বাবার সঙ্গে দেখা করবে বলে বেরিয়ে যায় বলে মৈাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি। তারপর থেকে খোঁজ নেই তার। ২৮ জানুয়ারি ঘটনাটি জানাজানি হয়। এরপরেই থানায় অভিযোগ হয়। কিন্তু ওই মাদ্রাসা থেকে কোনও অভিযোগ করা হয়নি কেন, এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, আগেও দু’একবার আবাসিক থেকে এ ভাবে চলে যেত ওই কিশোর। কিন্তু ফের ফিরে আসত। তাই ওই মাদ্রাসা থেকেই তার খোঁজ করা হচ্ছিল। কিন্তু ছাত্রের পরিবারের দাবি, ২৪ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ছেলের খোঁজে বাড়িতে কোনও ফোন করেননি। এমনকী, ছেলের খোঁজ মিলছে না, সে কথা জানানোই হয়নি।

Advertisement

কেন খবর দেওয়া হল না বাড়িতে?

মাদ্রাসার পরিচালন কমিটির সম্পাদক আব্দুল মামুদ গাজি বলেন, ‘‘আবাসিক ছাত্রদের দেখাশোনার ভার শিক্ষক অলিউর রহমানের। তিনি আমাদের জানান, ছেলেটি আগেও কয়েকবার না বলে চলে গিয়েছিল। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়েছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছিল।’’ অলিউর বলেন, ‘‘আবাসিকে থেকে প্রায় ৬৫০ জন ছাত্র পড়াশোনা করে। সাহারুল হাফিজি বিভাগে পড়াশোনা করে। আগেও একবার কাউকে কিছু না বলে বাড়ি ফিরে গিয়েছিল। ফের তাকে তার বাবা এসে রেখে যান। আমরা ভেবেছিলাম, হয় তো এ বারও বাবার সঙ্গে বাড়ি চলে গিয়েছে ছেলেটি। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার তার বাবা যখন ফোন করে ছেলে কেমন আছে জানতে চান, তখন সব জানাজানি হয়। আমরাও খোঁজখবর করছি।’’

Advertisement

রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালান সাহাদাদ। অভাবের সংসার। এর মধ্যেই ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন। তাঁর কথায়, ‘‘মাদ্রাসায় রেখে আসার পরে কী হল বুঝতে পারছি না। আত্মীয়দের বাড়িতে খোঁজ করেছি। কিন্তু কোনও সন্ধান মেলেনি ছেলের।’’

প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, সাহারুলকে আবাসিকে থাকার জন্য পরিবার থেকে জোর করা হতো। হয় তো সে কারণেই ছেলেটি মাদ্রাসা ছেড়ে আগেও একবার চলে গিয়েছিল। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement