গণধর্ষণে অভিযুক্তেরা। নিজস্ব চিত্র
জমি নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি না হওয়ায় এক বধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায়। গ্রেফতার করা হয়েছে ওই বধূরই দুই দেওরকে।
শুক্রবার রাতে হাড়োয়ার শালিপুর পঞ্চায়েতের একটি গ্রামের এই ঘটনায় মহিলার আরও দুই খুড়তুতো দেওর জড়িত বলে অভিযোগ। ওই মহিলার স্বামীকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। বধূটির ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে বারাসত জেলা হাসপাতালে। স্বামী-স্ত্রী একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বসিরহাটের এসডিপিও অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর দুই দেওরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দু’জনের খোঁজ চলছে। গ্রামে টহল দিচ্ছে পুলিশ।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, একটি জমির দখলকে কেন্দ্র করে ওই মহিলার স্বামী ও তাঁর ভাইদের মধ্যে গণ্ডগোল দীর্ঘ দিনের। একাধিক বার গ্রাম্য সালিশিতে মীমাংসা হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই মহিলার বাড়িতেই পরিবারের লোকজন আলোচনায় বসে। উত্তপ্ত বাদানুবাদের পরে রাত ৯টা নাগাদ বেরিয়ে যায় সকলে। সে সময়ে ‘দেখে নেব’ বলে হুমকি দিয়ে যায় মহিলার দেওরেরা। মহিলা বলেন, “ওরা যে স্রেফ ফাঁকা আওয়াজ দেয়নি, তা টের পেলাম কয়েক ঘণ্টা পরেই।”
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে বছর পঁয়ত্রিশের ওই বধূ জানিয়েছেন, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি ও তাঁর স্বামী। রাত তখন প্রায় ১টা। বেড়ার ঘর ভেঙে চড়াও হয় তাঁর চার দেওর। স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই মুখে চাপা দিয়ে মারতে মারতে বাইরে নিয়ে আসে ওই চার জন। ঘর থেকে বেরোতেই ইটের ঘা মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় স্বামীর। মহিলাকে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয় পাশেই পুকুর পাড়ে। সেখানেই একে একে চার জন তাঁকে ধর্ষণ করে বলে ওই বধূর অভিযোগ। তিনি বলেন, “ওরা বলছিল, ‘আমাদের জমি ছাড়বি না? দেখ তোকে কী শাস্তি দিই!’।” দেওরদের হাতে-পায়ে ধরে কাকুতি-মিনতি করেছিলেন মহিলা। কিন্তু মুখ বাঁধা থাকায় শব্দ বেরোয়নি। তাঁর কথায়, “ওদের অনেক ছোট থেকে দেখছি। সামান্য জমি নিয়ে বিবাদে এ ভাবে আমার উপরে অত্যাচার করবে, বিশ্বাস করতে পারছি না।”
স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপ-প্রধানের স্বামী মন্টু মোল্লা খবর পেয়ে গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে। তিনি বলেন, “গভীর রাতে গ্রামের লোকের ডাকাডাকিতে ঘুম ভেঙে যায়। সব শুনে ওদের বাড়ির সামনে আসি। দেখি, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন ওই বধূর স্বামী। একটু দূরে পড়ে মহিলা। বাবা-মায়ের কাছে বসে অঝোরে কাঁদছিল দুই ছেলেমেয়ে।’’ পুলিশ এসে ওই দম্পতিকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। শনিবার বিকেলে ধরা পড়ে দুই অভিযুক্ত। ধৃতদের পরিবারের অবশ্য দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে।