জলপথে নজরদারির জন্য জলযানই অমিল

মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার পরে সারা দেশ জুড়ে বেশ কিছু উপকূলবর্তী থানা গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তৈরিও হয়েছে তেমন কয়েকটি থানা। কিন্তু পরিকাঠামো এখনও চাঙ্গা করা হয়নি অনেক ক্ষেত্রে। ঝ়ড়খালি কোস্টাল থানার হাতে যেমন জলযানই নেই জলসীমায় নজরদারি চালানোর জন্য! ছোট মোল্লাখালি কোস্টাল থানা তুলনায় পুরনো হলেও জলযানের সমস্যা আছে সেখানেও।

Advertisement

সামসুল হুদা

শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:১০
Share:

মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার পরে সারা দেশ জুড়ে বেশ কিছু উপকূলবর্তী থানা গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তৈরিও হয়েছে তেমন কয়েকটি থানা। কিন্তু পরিকাঠামো এখনও চাঙ্গা করা হয়নি অনেক ক্ষেত্রে। ঝ়ড়খালি কোস্টাল থানার হাতে যেমন জলযানই নেই জলসীমায় নজরদারি চালানোর জন্য! ছোট মোল্লাখালি কোস্টাল থানা তুলনায় পুরনো হলেও জলযানের সমস্যা আছে সেখানেও।

Advertisement

সুন্দরবনের নদীপথে নজরদারি চালানোর জন্য বাম আমলেই তৈরি হয়েছিল ছোটমোল্লাখালি কোস্টাল থানা। পরে বাসন্তী থানাকে ভেঙে তৈরি করা হয় ঝড়খালি কোস্টাল থানা। গত বছর ৩০ অগস্ট দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর থেকে ঝড়খালি-সহ গোবর্ধনপুর, পারুলিয়া ও গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। অভিযোগ উপকূলবর্তী থানা তৈরি করা হলেও নদীপথে নজরদারি চালানোর জন্য ঝড়খালি কোস্টাল থানার কোনও স্পিড বোট, লঞ্চ, ভুটভুটি নেই। জলপথে লট ১২৪, ১২৫ এলাকায় নজরদারি চালানোর কথা ঝড়খালি কোস্টাল থানার। কিন্তু ওই থানার কাছে কোনও জলযান না থাকায় নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া, উপকূলবর্তী থানার হাতে যে অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকার কথা, তা-ও নেই। দূরবীণ, নাইটভিশন ক্যামেরাও অমিল। এ ছাড়া, প্রয়োজনের তুলনায় ফোর্সও কম।

“বাংলাদেশি জলদস্যু ঢুকে পড়লে কিছুই করার থাকবে না। এলাকায়
কোনও ঘটনা ঘটলে নৌকো ভাড়া করে যেতে হয়। অনেক দেরি হয়।”
—নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ অফিসার

Advertisement

লিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই থানায় রয়েছেন ২ এসআই, ৩ এএসআই, ৬ জন কনস্টেবল ও এক জন মহিলা পুলিশকর্মী। স্থলপথে ওই থানার এলাকা ৫২ বর্গকিলোমিটার। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, জনসংখ্যা ৩৮ হাজারেরও বেশি। ভাড়া বাড়িতে ওই থানা তৈরি হয়েছে। পানীয় জলের সমস্যা আছে। থানার নিজস্ব জেনারেটর না থাকায় নফরগঞ্জ পঞ্চায়েত থেকে সোলার লাইট লাগিয়ে দেওয়া হয়।। স্থলপথে নজরদারি চালানোর জন্য রয়েছে ১টি জিপ ও ১টি মাত্র মোটর বাইক।

অন্য দিকে, ছোট মোল্লাখালি কোস্টাল থানা পুরনো হলেও সেখানে কর্মীদের থাকার ব্যারাকের সমস্যা মেটেনি এখনও। পানীয় জলের সমস্যাও ভোগায় পুলিশকর্মীদের। ছোটমোল্লাখালি থানার এলাকা ২৮৫০ বর্গকিলোমিটার। যার মধ্যে জনবসতি এলাকা ৮৫ বর্গকিলোমিটার। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, থানা এলাকায় জনসংখ্যা ১ লক্ষ ৩৫ হাজারেরও বেশি। ওই থানায় রয়েছেন ৩ জন এসআই, ৫ জন এএসআই, ৩১ জন কনস্টেবল ও ২ জন মহিলা পুলিশকর্মী। নদীপথে নজরদারি চালানোর জন্য রয়েছে ৩টি স্পিড বোট, ১টি ভুটভুটি। এরমধ্যে ২টি স্পিড বোট আবার দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। নেই কোনও লঞ্চ। একটি জিপ থাকলেও তা নদী পেরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে বাসন্তী থানায় রাখতে হয়। স্থলপথে নজরদারি চালানোর জন্য ৩টি মোটর বাইকই ভরসা।

ঝড়খালি কোস্টাল থানার এক অফিসার বলেন, ‘‘ঢাল নেই তরোয়াল নেই— আমরা হলাম স্রেফ নিধিরাম সর্দার। নদীপথে নজরদারি চালানোই যেখানে আমাদের মূল কাজ, সেখানে আমাদের কোনও জলযানই নেই। যদি কোনও বাংলাদেশি জলদস্যু ঢুকে পড়ে, তা হলে আমাদের কিছুই করার থাকবে না। এলাকায় কোনও ঘটনা ঘটলে আমাদের নৌকো ভাড়া করে যেতে হয়। ঘটনা ঘটার অনেক পরে সেখানে পৌঁছতে পারি।’’

ভারত-বাংলাদেশের বিরাট অংশে উন্মুক্ত জলসীমা কোথাও আবার ঘন জঙ্গল। সে ভাবে নজরদারি চালানোই যায় না। কিছু দিন আগে সুন্দরবনে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ সীমান্ত এলাকার এই সমস্যার কথা স্বীকারও করেন। তার আগে সুশীলকুমার শিন্দেও মন্ত্রী থাকাকালীন মেনে নিয়েচিলেন এই সমস্যার কথা। এরপরে এই সব এলাকায় বিএসএফের নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়। কিন্তু তার পরেও উপকূলবর্তী থানা এলাকায় নজরদারির ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। মৎস্যজীবীদের ছদ্মবেশে জঙ্গি অনুপ্রবেশের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তা ছাড়া, বাংলাদেশি জলদস্যুদের হাতে বার বার অপহৃত হচ্ছেন এ দেশের মৎস্যজীবীরা। অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশি মৎস্যজীবীরা এ দেশে ঢুকে পড়ছে। তাদের টক্কর দেবে, এমন শক্তি কোথায় কোস্টাল থানাগুলির! আগামী দিনে সরকার আরও কিছু উপকূলবর্তী থানা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যে নতুন উপকূলীয় থানাগুলি তৈরি হয়েছে, তার পরিকাঠামো শুধরোবে কবে, প্রশ্ন সেটাই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement