তৃণমূল সমর্থকের লাঠির ঘায়ে খুন এসইউসি কর্মী

জমিজমা নিয়ে বিবাদের জেরে তৃণমূল সমর্থকদের লাঠির ঘায়ে খুন হলেন এক বৃদ্ধ এসইউসি কর্মী। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে রায়দিঘির কঙ্কনদিঘি পঞ্চায়েতের পশ্চিমজটা গাজির ঘেরি গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের নাম সন্তোষ মণ্ডল (৬০)। জেলার পুলিশ সুপার সুনীল চৌধুরী বলেন, ‘‘ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও তিন জন পলাতক। কী কারণে খুন, তা জানতে তদন্ত চলছে।’’ দেহ ময়না-তদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৫ ০০:৩৪
Share:

জমিজমা নিয়ে বিবাদের জেরে তৃণমূল সমর্থকদের লাঠির ঘায়ে খুন হলেন এক বৃদ্ধ এসইউসি কর্মী। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে রায়দিঘির কঙ্কনদিঘি পঞ্চায়েতের পশ্চিমজটা গাজির ঘেরি গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের নাম সন্তোষ মণ্ডল (৬০)। জেলার পুলিশ সুপার সুনীল চৌধুরী বলেন, ‘‘ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও তিন জন পলাতক। কী কারণে খুন, তা জানতে তদন্ত চলছে।’’ দেহ ময়না-তদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কঙ্কনদিঘি পঞ্চায়েতে ওই গ্রামের উত্তর দিকে বছরখানেক আগে একটি পুকুর কিনেছিলেন সন্তোষবাবু। কিছু দিন মাটি কেটে তার সংস্কার করেন। অভিযোগ, মাস কয়েক আগে গ্রামেরই তৃণমূল সমর্থক হানিফ মোল্লা ও হাকিম মোল্লার পরিবারের লোকজন পুকুরপাড় জোর করে দখল করে নেয়। কিছু দরমার দেওয়াল, খড়ের চালের ঘরও উঠে যায়। জমির দখল পেতে সে সময়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন সন্তোষবাবু। বুধবার রাতে কে বা কারা সেই ঘরগুলি ভেঙে দিয়েছিল।

গ্রামের একটি খালের অংশও হানিফ-হাকিমদের পরিবার দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ ছিল। ইতিমধ্যে, বুধবার ওই খাল থেকে কচুরিপানা তোলার কাজ করছিলেন গ্রামবাসী। হানিফ ও হাকিমের পরিবারের লোকজনের সেটা না-পসন্দ ছিল। তা নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। সমস্যা মেটাতে ডাক পড়েছিল সন্তোষবাবুর। এলাকায় এ ধরনের বিবাদ মেটাতে তিনি সিদ্ধহস্ত বলে নামডাক ছিল। হানিফদের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি বেধে যায়। হানিফের দলবল আচমকাই তাঁকে লাঠিপেটা শুরু করে বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীরা জখম সন্তোষবাবুকে উদ্ধার করে রায়দিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে পাঠানো হয় ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানেই মারা যান তিনি।

Advertisement

গ্রামের জনপ্রিয় মানুষটিকে খুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই লোকজন জড়ো হয়ে যায়। জানা যায়, মণিনদী সাঁতরে পালানোর চেষ্টা করেছিল হানিফ-হাকিম ও তাদের পরিবারের সদস্যেরা। কিন্তু নদীর ও পাড়ে কুলতলি এলাকায় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ে যায় চার জন। পরে নলগোড়া পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। গ্রেফতারও করা হয়। তবে পালিয়ে যায় মূল অভিযুক্ত হানিফ-হাকিম।

দলমত নির্বিশেষে এলাকায় জনপ্রিয়তা ছিল সন্তোষবাবুর। গৌতম হালদার, সন্তোষ ছাঁটুই, ঝুমা মণ্ডলদের অভিযোগ, তৃণমূল সমর্থক পরিবার দু’টিকে নিয়ে সারা গ্রামের মানুষ তিতিবিরক্ত। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তাদের সঙ্গেই ভিড়ে যায় এরা। বর্তমানে তৃণমূলের মদতে এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছিল। সন্তোষবাবুর মেজ ছেলে রামপ্রসাদ মণ্ডল বলেন, ‘‘জমিজমা নিয়ে পুরনো আক্রোশের জেরেই ওরা খুন করেছে। যা ঘটেছে, তৃণমূলের মদতেই।’’

এ দিন নিহতের বাড়িতে যান স্থানীয় এসইউসি নেতৃত্ব। দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রূপম চৌধুরী বলেন, ‘‘এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের দোষীদের দাবিতে এবং রাজ্য জুড়ে শাসক দলের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ১৪ নভেম্বর রায়দিঘি থানা এলাকায় ১২ ঘণ্টা বন্‌ধের ডাক দেওয়া হয়েছে।’’ নিহতের বাড়িতে গিয়েছিলেন এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক তথা সিপিএম নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ও। মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন তিনিও।

মথুরাপুরে-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি প্রদ্যুৎ প্রামাণিকের অবশ্য দাবি, ‘‘খাল দখল করা নিয়ে গ্রাম্যবিবাদের জেরেই খুন। এর সঙ্গে আমাদের দলের কোনও যোগ নেই।’’ তিনি বলেন, ‘‘যে পরিবারে বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছে, তারা কখন কোন দল করে, তার ঠিক নেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement