পোষা গরুকে এক মুঠো খাবার দিতে এখন হিমশিম খাচ্ছেন গোয়ালারা।—নিজস্ব চিত্র।
মাঠ ডুবেছে, ঘাস নেই। বিচালির গাদায় জল উঠে পচে গিয়েছে। সঙ্কটে কাকদ্বীপ, ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দারা। অনেক জায়গায় টাকা দিয়েও মিলছে না গোখাদ্যের জোগান। বাধ্য হয়ে বানের জলে ভেসে আসা গাছ-পাতা দিয়েই পেট ভরাতে হচ্ছে গরু-ছাগলের। এ সবের জেরে দুধের জোগানেও টান পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সাহায্যে গরুর খাবার বিলি করার কথা। কিন্তু ডায়মন্ড হারবার ও কাকদ্বীপ মহকুমার অনেক জায়গাতেই তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। জেলা পরিষদের প্রাণিসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ মানবেন্দ্র হালদারের অবশ্য দাবি, ‘‘এখনও সে রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের কাছ থেকে এলে আমরা সাহায্য করব।’’ কিন্তু কবে সেই রিপোর্ট আসবে, তত দিন দুর্গত এলাকায় গবাদি পশুরা খাবে কী, সে প্রশ্নের উত্তর অমিল।
সাগর দ্বীপের রামকরচর পঞ্চায়েতের কৃষ্ণনগর গ্রামের চাষি সুখদেব মণ্ডল ৬টি দেশি গরুর জন্য বাড়িতে প্রায় ৬ হাজার টাকার বিচালি মজুত রেখেছিলেন। কিন্তু গত তিন সপ্তাহের বৃষ্টিতে সব ভিজে, পচে গিয়েছে। তাই এখন গ্রামেরই অন্যান্যদের কাছ থেকে বিচালি অনেক দামে কিনতে হচ্ছে। দাম বেড়েছে খুদ-কুঁড়োরও। সুখদেববাবু বলেন, ‘‘এমনিতে মাঠ থেকে ঘাস কেটে নিয়ে এসে হিমুল, ভুষির সঙ্গে খাওয়াতাম। তার সঙ্গেই মজুত করে রাখা কয়েক কাহন খড় পচে গেল। এখন কী ভাবে গরু পুষব জানি না।’’ গ্রামের দিকে যদিও বা এক-দু’জায়গায় বিচলি পাওয়া যাচ্ছে, শহর-ঘেঁষা এলাকায় যাঁদের গবাদি আছে, তাঁরা খাদ্যের জোগার দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ডায়মন্ড হারবারের গোয়ালা গোবিন্দ মাঝি, পার্বতী ঠাকুররা অনেক দিন ধরেই গরু-ছাগল পুষছেন। পাবর্তীদেবী বলেন, ‘‘কিছুটা বিচালি বাড়িতে এনে রাখা ছিল, পচে গিয়েছে। এখন প্রায় ৩০০ টাকা করে বেশি দিতে হচ্ছে এক কাহন বিচালির জন্য।’’ কাকদ্বীপ, ডায়মন্ড হারবার ছাড়িয়ে কলকাতার আরও কাছাকাছি শিরাকোল পঞ্চায়েত। অযোধ্যানগরের গোয়ালা সোহরাব শেখ বলেন, ‘‘প্রায় ৫০০ টাকা করে বেড়ে গিয়েছে প্রতি কাহন খড়ের দাম। তা-ও বিচালি পাওয়া যাচ্ছে না। জলে ভেসে আসা গাছ পাতা খাইয়ে চালাতে হচ্ছে বলে গরু-বাছুরের শরীরও খারাপ হচ্ছে।’’ আংশিক পচে যাওয়া, ফেলে দেওয়া সব্জি থেকেই ছাগলের খাবার দেওয়া হয়। তার দামও এখন আকাশছোঁয়া। তাই বিপদে ছাগল মালিকেরাও।
মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে অগস্টের মাঝ পর্যন্ত এই সময়টা দুধ উৎপাদনের ‘ফ্লাস সিজন’। প্রচুর দুধ উৎপাদন হওয়ার কথা। কিন্তু জেলার দুগ্ধ সমবায়, সুন্দরবন মিল্ক ইউনিয়নে দুধের অভাবে প্ল্যান্ট বন্ধ। এই প্ল্যান্ট থেকে মোট ১০ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ ও মাদার ডেয়ারির মতো সংস্থাগুলিকে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এখন সেখানে দুধের জোগান নেই। ইউনিয়ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, চারদিকে জল উঠে গিয়ে প্রচণ্ড খারাপ অবস্থা গোখাদ্যের। তাই উৎপাদন মার খেয়েছে। এলাকায় কয়েক বছর আগেও ৭ হাজার লিটার করে দুধ উৎপাদন হতো। অতি বর্ষার জেরে দুধের উৎপাদন একেবারে তলানিতে।