চলছে গাড়ি ভাঙচুর। ছবি: সুদীপ ঘোষ।
এলাকায় দেশি মদের দোকান খোলা হচ্ছেএই ধারণা থেকে বৃহস্পতিবার তেতে উঠল দত্তপুকুর থানার নীলগঞ্জ। ভাঙচুর হল গাড়ি। মারধর করা হল দু’জনকে। হল অবরোধও। অবরোধ তুলতে গিয়ে হিমশিম খেল পুলিশ, নামল র্যাফ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বছর চারেক আগে বারাসত-ব্যারাকপুর রোডের পাশেই নীলগঞ্জের নতুনহাটের ঢালিপাড়ায় একটি দেশি মদের দোকানের লাইসেন্স পান তাপস মজুমদার নামে এক ব্যক্তি। এলাকায় মদের দোকান হলে ‘পরিবেশ নষ্ট হবে’ এই যুক্তিতে বাসিন্দারা দোকান খুলতে বাধা দেন। ২০১২ সালে লাইসেন্সটি বাতিল করে আবগারি দফতর। কিন্তু সে কথা জানা ছিল না এলাকার মানুষের।
তাপসবাবুর দাবি, যে বাড়িতে দোকানটি হওয়ার কথা ছিল, সেটি তাঁরই বাড়ি। এ দিন বেলা ১টা নাগাদ বাড়িটির অবস্থা দেখতে ১০-১২ জন বন্ধুর সঙ্গে তিনি ঢালিপাড়ায় যান। কিন্তু তাপসবাবু ফের মদের দোকান খুলতে এসেছেন এই ভেবে লাঠিসোটা নিয়ে কিছু পুরুষ ও মহিলা তাঁর উপরে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। তাপসবাবুদের গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়। তাঁর সঙ্গীরা এলাকা ছাড়েন। তাপসবাবুর দাবি, তাঁকে ও তাঁর বন্ধু মহম্মদ আলাউদ্দিনকে মারধর করতে করতে একটি ক্লাব-ঘরে আটকে রাখা হয়। মারের চোটে মাথা ফেটে গেলে স্থানীয় ভাবে ব্যান্ডেজ করানো হয়।
এলাকাবাসীদের দাবি, ঘনবসতি এলাকায় মদের দোকান খোলা নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। তাপসবাবু ‘বাউন্সার’-দের নিয়ে এলাকায় ঢোকায় তাঁদের ধারণা হয়, তিনি দোকান খোলার চেষ্টা করছেন। মানুষ বাধা দিলে তাপসবাবুর সঙ্গীরা ‘ভয়’ও দেখায় বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে বেলা দেড়টা নাগাদ তাঁরা বারাসত-ব্যারাকপুর রোডে অবরোধ করেন। তা তুলতে গেলে জনতার সঙ্গে পুলিশের তকর্র্ হয়। নামানো হয় র্যাফ, অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। আবগারি দফতরের কর্মীরাও গিয়ে ওই দোকানের লাইসেন্স যে আগেই বাতিল হয়ে গিয়েছে সে কথা জনতাকে বোঝান। সাড়ে ৪টেয় অবরোধ ওঠে। তাপসবাবুদের বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। তাপসবাবুর দাবি, “বাউন্সার নয়, বন্ধুদের নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম। তারা কাউকে ভয়ও দেখায়নি।”
উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, “ভুল বোঝাবুঝির জন্য এই ঘটনা। কেউ গ্রেফতার হয়নি।”