মঞ্চে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক সভায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সাইকেল বিলি মোটামুটি রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ, শুক্রবার ন্যাজাটের প্রশাসনিক সভা থেকেও সাইকেল বিলির কথা আছে তাঁর। ঠিক তার আগের দিন, বৃহস্পতিবার হাসনাবাদের জনসভা থেকে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী সাইকেল বিলি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। অধীর এ দিন বলেন, ‘‘কেন্দ্র সরকার পড়ুয়াদের সাইকেলের জন্য বরাদ্দ করেছে ৩ হাজার টাকা করে। অথচ, একুশশো টাকায় সাইকেল কেনা হচ্ছে।’’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ, ‘‘তৃণমূল পার্টির ঠিকাদারেরা যেমন বাংলাদেশে গরু পাচার করছে, তেমনই সাইকেলের বাকি টাকা আত্মসাৎ করছে।’’ সরকারি কোষাগার দেউলিয়া করে, কোটি টাকা খরচ করে মুখ্যমন্ত্রী ন্যাজাটে সভা করতে আসছেন বলেও কটাক্ষ করেছেন অধীর।
ঘটনাচক্রে এ দিনই রাজ্য সরকারের সাইকেল বিলির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কথাতেও। কলকাতায় জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের সভায় দাবি উঠেছিল, অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ এক লক্ষ পড়ুয়াকে প্রতি বছর সাইকেল দিক সরকার। মমতা অবশ্য জানিয়েছেন, তাঁর সরকার আরও বেশ সংখ্যায় সাইকেল বিলিতে আগ্রহী। নবম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম দফায় ২৫ লক্ষ ছেলেমেয়েকে সাইকেল দেওয়া হবে। পরের দফায় সংখ্যাটা হবে ১৫ লক্ষ।
বৃহস্পতিবার হাসনাবাদের হাবাসপুর সেতুর পাশের মাঠে জনসভা থেকে আগাগোড়া মুখ্যমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করেছেন অধীর। সিদ্দিকুল্লায় মমতার উপস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। অধীর বলেন, ‘‘বিধানসভা ভোট এসে পড়েছে দেখে সংখ্যালঘু মানুষকে ধাপ্পা দিয়ে দলে টানতেই কি সিদ্দিকুল্লার সভায় গিয়ে বক্তৃতা করছেন উনি?’’ সংখ্যালঘুদের জন্য সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ মমতার আমলে কমেছে বলে দাবি করেছেন অধীর। বিজেপি, নরেন্দ্র মোদী এবং সেই সূত্রেই দেশ জুড়ে অসহিষ্ণুতা নিয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।
সভায় ভিড় হয়েছিল কয়েক হাজার। বেশ কয়েকজন সিপিএম এবং তৃণমূল কর্মী-সমর্থক কংগ্রেসে যোগ দেন বলেও দাবি দলের নেতাদের। সভা শেষে তালপুকুর বাজারে কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিসের উদ্বোধন করেন অধীর। -নিজস্ব চিত্র।