Road Accident

বেপরোয়া টোটোর ধাক্কায় মৃত্যু, ধৃত চার

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম নূপুর চট্টোপাধ্যায় (৫৩)। বাড়ি ডোমজুড়ের মাকড়দহে। এই ঘটনা প্রমাণ করল হাওড়া জুড়ে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ টোটোর দাপট ঠিক কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৫ ০৮:১১
Share:

মৃতার নাম নূপুর চট্টোপাধ্যায় (৫৩)। —প্রতীকী চিত্র।

বেপরোয়া গতিতে আসা টোটোর ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হল কলকাতা পুলিশে কর্মরত এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের। শনিবার বিকেলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শিবপুরে নবান্ন সভাঘরের কাছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম নূপুর চট্টোপাধ্যায় (৫৩)। বাড়ি ডোমজুড়ের মাকড়দহে। এই ঘটনা প্রমাণ করল হাওড়া জুড়ে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ টোটোর দাপট ঠিক কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন নবান্নে ডিউটি করে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার হেঁটে নবান্ন সভাঘরের পাশ দিয়ে বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন। ঘটনারপ্রত্যক্ষদর্শী এক পুলিশকর্মী বলেন, ‘‘রাস্তার বাঁ দিক ঘেঁষে যাচ্ছিলেন নূপুর। পিছনে একটি টোটোয় বসা চারটি ছেলে নানা রকম কায়দা করতে করতে খুব জোরে এসেওই দিদিকে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়। টোটোর নীচে চাপা পড়ে যান ওই দিদি।’’

এই দৃশ্য দেখে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা ছুটে যান। তাঁরাই টোটোর নীচ থেকে কোনও ভাবে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার মহিলাকে উদ্ধার করে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ টোটোয় থাকা চালক-সহ চার যুবককে আটক করেছে। টোটোটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

সিভিক ভলান্টিয়ারের দেহ ময়না তদন্তের জন্য এ দিনই সন্ধ্যায় পুলিশ মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে মৃতার স্বামী সুপ্রিয় চট্টেপাধ্যায় জানান, কলকাতার বডিগার্ড লাইন্স থেকে ২০১৮ সালে সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিযুক্ত হন নূপুর। মূলত তাঁর স্ত্রী শিবপুরেরঅপ্রকাশ মুখার্জি লেনের বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে নবান্নে ডিউটি করতে যেতেন। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে। এই ঘটনায় বিধ্বস্ত সুপ্রিয়বলেন, ‘‘কী ভাবে এমনটা হল, বুঝতে পারছি না।’’

এ দিনের দুর্ঘটনার পরে স্থানীয় বাসিন্দারা টোটোর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা জানান, স্থানীয় বকুলতলা, শালিমার এলাকার টোটোগুলি ছুটির দিনে যখন নবান্নের সামনে পুলিশি পাহারা কম থাকে, তখন বেপরোয়া হয়ে ওঠে। টোটো নিয়ে তাঁরা নানা ঝুঁকির খেলাও দেখায় বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা অমরেন্দ্রনাথ তালুকদার নামে এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, ‘‘এলাকার কিছু ছেলেকে দেখি, বেপরোয়া ভাবে টোটো চালিয়ে যাচ্ছে। এদের জন্য রাস্তায় বেরিয়েও আতঙ্কে থাকতেহয়।’’ অন্য বাসিন্দারাও জানান, এর আগেও ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু টোটোর ধাক্কায় তারই নীচে চাপা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম।

হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তার যদিও দাবি, ‘‘অবৈধ টোটো নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট রূপরেখাতৈরি করা হচ্ছে। হাওড়া আঞ্চলিক পরিবহণ দফতর বিষয়টি দেখছে। পুলিশের তরফে সব রকম সাহায্য করা হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন