মঞ্চে: বড়জোড়ার সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: অভি়জিৎ সিংহ
বাঁকুড়ার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে হারের ভুলের যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে কথা পঞ্চায়েত ভোটের আগে মনে করিয়ে দিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়ার বার্তা দিয়ে গেলেন তিনি। সেই সঙ্গে বিরোধীদেরও সমানে বিদ্ধ করলেন।
শনিবার বড়জোড়া হাইস্কুল ফুটবল ময়দানে জনসভা করেন অভিষেক। সভার শুরুতেই বড়জোড়াকে সভাস্থল হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ কী, তা সাফ জানিয়ে দেন তিনি। অভিষেক বলেন, “গত বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের ভুলেই এই জেলার পাঁচটি কেন্দ্রে হারতে হয়েছে দলকে। ওই কেন্দ্রগুলির মধ্যে বড়জোড়া অন্যতম। আমাদের লক্ষ্য, আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে বড়জোড়া ব্লকের সমস্ত পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের আসনেই জয়লাভ করা। আর তার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়তে হবে।”
দলীয় কর্মীদের প্রতি অভিষেকের নির্দেশ, জেলার নেতারা জেলায়, ব্লকের নেতারা ব্লকে ও বুথের নেতারা বুথস্তরে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের বার্তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। বিরোধীরা সভা করলে পাল্টা সভা, মিছিল করলে পাল্টা মিছিল করতে হবে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে।
কয়েক সপ্তাহ আগেই পাশের ব্লক গঙ্গাজলঘাটিতে বিজেপি সভা করেছিল। সেখানে মুকুল রায় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছিলেন। এ দিন মুকুলের নাম না করে অভিষেক বলেন, “আমরা যাঁকে দল থেকে ছুড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছি, তাঁকে নিয়েই এখন বিজেপি নাচানাচি করছে। ওই চাটনিবাবু আবার বলছেন, বাঁকুড়ায় নাকি কয়লা, গরু চলছে। তিনি নিজেই যত অসামাজিক, অবৈধ কাজে পিএইচডি করে বসে আছেন।’’ তাঁর কটাক্ষ, এই সময়টা উনি মানুষের সেবা করলে, দিল্লি গিয়ে বিজেপির পাঞ্জাবি ধরে ঝুলতে হতো না।
অভিষেক বলেন, ‘‘আমাদের দলে যাঁর নেতৃত্বে বেনো জল ঢুকে ছিল, তাঁকেই আমরা বের করে দিয়েছি। উনি ইতিমধ্যেই বাংলার ভোটার তালিকা থেকে নাম তুলে নিয়েছেন। তিনি এখন দিল্লির ভোটার। এই জেলার একটিও গ্রাম পঞ্চায়েতের আসনে চাটনিবাবু জিতে দেখাক।” কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতিরও প্রতিবাদ করেন অভিষেক।
গত বিধানসভা নির্বাচনে বড়জোড়ায় সিপিএম প্রার্থী সুজিত চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সোহম চক্রবর্তী। উন্নয়নের স্বার্থেই এলাকায় তৃণমূল প্রার্থীদের জিততে হবে বলে জানান অভিষেক।
তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারের উদ্যোগে গোটা জেলা জুড়েই উন্নয়ন হচ্ছে। সেই উন্নয়নের কাজ যাতে আরও বেশি গতি পায়, সেই লক্ষেই বড়জোড়াতেও আমাদের জিততে হবে।”
তালড্যাংরার বিধায়ক সমীর চক্রবর্তীর কটাক্ষ, ‘‘বিজেপি-র যা অবস্থা প্রার্থী চেয়ে ওঁদের সংবাদপত্রে বি়়়জ্ঞাপন দিতে হবে।’’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, “সিপিএমের বিধায়ক বড়জোড়ার এলাকায় যত না ঘোরেন, তার চেয়ে অনেক বেশি ঘোরেন এখানকার আমাদের প্রাক্তন বিধায়ক আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। মানুষের উন্নয়নের কাজে কোনও দিনই দেখা মেলে না সিপিএমের।”
তবে এই ব্যাপারে চেষ্টা করেও বড়জোড়ার সিপিএম বিধায়কের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পঞ্চায়েত ভোটের আগে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিয়েও দলীয় কর্মীদের নজর দিতে বলে গিয়েছেন অভিষেক। অভিষেক বলেন, “কোথাও যদি উন্নয়ন হওয়ার দরকার রয়েছে বলে মনে হয়, তাহলে বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বা জেলা পরিষদের সভাধিপতির সঙ্গে ব্লক সভাপতির মাধ্যমে কথা বলুন।”
সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “এমনিতেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে উন্নয়নমূলক কাজের দাবি উঠে এলে আমরা অগ্রাধিকার দিই। অভিষেকের নির্দেশের পরে সমস্ত বুথ থেকে সেই দাবি উঠে এলে উন্নয়নের কাজে গতি আরও বাড়বে।”
বিজেপি-র রাজ্য সহ-সভাপতি তথা বাঁকুড়ার বাসিন্দা সুভাষ সরকার অভিযোগ করেন, “তৃণমূল নেতারা উন্নয়ন না করে উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের পাঠানো টাকা পকেটে পুরছেন, মানুষ তা বুঝে গিয়েছেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনেই মানুষ যোগ্য জবাব দেবে।”