(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
সই জাল কাণ্ডে তদন্তের জন্য মঙ্গলবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে হানা দিয়েছিল সিআইডি। কিন্তু সিআইডি-র ওই কাজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ বার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল তৃণমূল। চলতি সপ্তাহ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচাৰ্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্য দিকে, সই জাল কাণ্ডেই রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার ওই মামলায় দ্রুত শুনানি চেয়ে হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তিনি। বুধবার এই বিষয়ে অভিষেকের হয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার অভিষেকের মামলাটি শুনবে আদালত।
সই-কাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুপুরে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল দফতরে যায় সিআইডি-র একটি দল। তবে প্রথমেই ভিতরে ঢুকতে পারেনি সিআইডি। প্রায় ঘণ্টাখানেক ওই কার্যালয়ে থাকা তৃণমূল নেতার সঙ্গে বাদানুবাদের পর ভিতরে প্রবেশ করতে পারে তারা। প্রায় ঘণ্টা দুই কার্যালয়ের ভিতরে তল্লাশি চালায় সিআইডি। তৃণমূলের তরফে আইনজীবী কিশোর দত্ত বুধবার হাই কোর্টে অভিযোগ করেন যে, কোনও সার্চ ওয়ারেন্ট এবং সিজ়ার লিস্ট ডকুমেন্ট ছাড়াই সিআইডি জোরপূর্বক ভিতরে প্রবেশ করে।
এর আগে সই জাল-কাণ্ডে অভিষেকের রক্ষাকবচ সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল হাই কোর্টের বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাসের বেঞ্চ। বলা হয়েছে, বুধবার, ১০ জুন অভিষেকের মামলার শুনানি হবে। কিন্তু বুধবার শুনানির তালিকায় মামলাটির উল্লেখ না-থাকায় দ্রুত শুনানির আর্জি জানান কল্যাণ। বিচারপতি চন্দ জানান, বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানি হবে।
সই-কাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে গত ৩০ মে প্রথম অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে যায় সিআইডি। ১ জুন তৃণমূল সাংসদকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিষেক হাজিরা না-দিয়ে সিআইডির থেকে ১৪ দিনের সময় চান। তবে সিআইডি অভিষেককে সময় দেয়নি। ১ জুন আবার কালীঘাটের বাড়ি গিয়ে সাত দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ সংবলিত নোটিস দিয়ে আসে সিআইডি। কিন্তু সোমবারও হাজিরা দেননি অভিষেক। সোমবারও তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে তৃতীয় নোটিস ধরিয়ে আসে সিআইডি। মঙ্গলবারই হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার আগে কালীঘাটে তৃণমূলের কার্যালয়ে যায় সিআইডি-র দল।
সই-কাণ্ডে সিআইডি-র আতশকাচের নীচে রয়েছেন অভিষেক। অভিযোগ ওঠে, অভিষেক বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে তৃণমূল বিধায়কদের সই করা প্রস্তাবিত চিঠি পাঠান, তাতে কয়েক জন বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, যে বৈঠকে বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটা হয়েছিল কালীঘাটের এই কার্যালয়ে। সূত্রের খবর, সে দিনের বৈঠকে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা সই করেছিলেন— এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তকারীরা মমতার বাড়ির লাগোয়া কার্যালয়ে যান। সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহও করতে চায় সিআইডি।