মেসির সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ফাইল চিত্র।
অরূপ বিশ্বাস কি মেসির বাল্যবন্ধু হন? যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, মেসির এত কাছে গেলেন কেন অরূপ বিশ্বাস? অন্য তিন জায়গায় অনুষ্ঠান সুন্দর ভাবে হল, কিন্তু কলকাতায় কেন বিশৃঙ্খল অবস্থা হল? তা-ও জানতে চেয়েছে আদালত। গোটা ঘটনাটি রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, সে দিনের ঘটনায় আর্জেন্টিনীয় ফুটবল তারকা মেসির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা হয়েছে। মামলাকারী তখন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন। তিনি কেন এমন আচরণ করেছিলেন? এর পরই আদালতের ভর্ৎসনা, ‘‘একজন মন্ত্রীর এমন আচরণ ছবিতে দেখা গিয়েছে। সেটিকে কী ভাবে বিচার করা হবে?’’
মেসির কাছাকাছি কী করে এত লোক গেলেন, তা নিয়েও বুধবার প্রশ্ন তুলেছে আদালত। পুলিশের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত রিপোর্ট চাওয়া হবে বলেও জানাল হাই কোর্ট। অরূপের মামলার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে কি না সেটাও দেখা হবে। এ ছাড়া ওই ঘটনার তদন্ত চলবে বলেও জানিয়েছে হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশ, মামলাকারীকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তদন্তকারী অফিসারদের সামনে তাঁকে হাজির হতে হবে। শুধু তাই-ই নয়, আদালতের অনুমতি ছাড়া শহরের বাইরে যেতে পারবেন না মামলাকারী।
অন্য দিকে, শতদ্রু দত্তের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ৭০ হাজার টিকিট তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাস একাই ২২ হাজার টিকিট নিয়েছিলেন তাঁর বিধানসভার জন্য। অনেক ক্লাবকে অরূপ টিকিট বিক্রি করেছেন বলে জানান শত্দ্রু আইনজীবী।
গ্রেফতারের আশঙ্কায় সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মেসি-কাণ্ডে গ্রেফতারের আশঙ্কায় হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অরূপের আইনজীবী কিশোর দত্ত। রক্ষাকবচের আবেদন করেন তিনি। যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে দিন কয়েক আগে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। অরূপ-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন শতদ্রু। অরূপদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় এফআইআর হয়। যুবভারতীর ঘটনায় সমালোচিত হয়েছিল তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপের ভূমিকা। অভিযোগ উঠেছিল, যুবভারতীতে আর্জেন্টিনা তারকা লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে ভিড় করেছিলেন বহু ব্যক্তি। অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশৃঙ্খলার জেরে বহু দর্শক টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পাননি। বিতর্কের মধ্যেই ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অরূপ। এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন অরূপ। এ বার রক্ষাকবচ চেয়ে দ্বারস্থ হয়েছেন হাই কোর্টেরও।