Abhishek Banerjee

বিপর্যয়ের ২৬ দিনের মাথায় শনিবার রাস্তায় নামছেন অভিষেক, কাজের কাজ হবে কি? সন্দিহান তৃণমূলের অন্দরমহলই

একান্ত আলোচনায় তৃণমূলের অনেকেই মানছেন, অভিষেক রাস্তায় নামলে কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা বলা মুশকিল। যে ভাবে তাঁর বাড়ির সামনে লোকজন জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বা নেতিবাচক মন্তব্য করেছে, শনিবার ফের তেমন কিছু ঘটলে নতুন করে সে সবই আলোচনায় ফিরে আসবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ ১৯:৪১
Share:

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

বিধানসভা ভোটের ফল বেরিয়েছে গত ৪ মে। নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকে নিজের গণ্ডি কালীঘাটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে ২৬ দিন পর শনিবার রাস্তায় নামছেন অভিষেক। সোনারপুর দক্ষিণ এবং বেলেঘাটার দুই ‘আক্রান্ত’ তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন তিনি। অভিষেকের এই রাস্তায় নামার ফলে তৃণমূল কি আদৌ উজ্জীবিত হবে? না কি তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ হলে নতুন করে ক্ষত তৈরি হবে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত তৃণমূলে?

Advertisement

একান্ত আলোচনায় তৃণমূলের অনেকেই মানছেন, অভিষেক রাস্তায় নামলে কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা বলা মুশকিল। যে ভাবে তাঁর বাড়ির সামনে লোকজন জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বা নেতিবাচক মন্তব্য করেছে, শনিবার ফের তেমন কিছু ঘটলে নতুন করে সে সবই আলোচনায় ফিরে আসবে। ঢাকা পড়ে যাবে অভিষেকের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। প্রাক্তন শাসকদলের অনেকে এ-ও বলছেন, অভিষেকের বাড়ির সামনে যা যা ঘটেছে, তার অনেকটা যেমন সংগঠিত, তেমন বেশ কিছুটা স্বতঃস্ফূর্তও বটে। তৃণমূলের মধ্যে এই আশঙ্কা রয়েছে, অভিষেক যে হেতু তাঁর কর্মসূচির কথা আগাম ঘোষণা করে যাচ্ছেন, ফলে বিজেপিও বিক্ষোভের জন্য প্রস্তুতি পাবে। কারণ, তাঁর সঙ্গে আগের মতো পুলিশ, নিরাপত্তার বহর থাকবে না।

বৃহস্পতিবারই অভিষেকের উদ্দেশে মেল পাঠিয়ে তৃণমূল মুখপাত্রের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন কলকাতার ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। কর্মীরা আক্রান্ত হলেও কেন নেতৃত্ব রাস্তায় নামছেন না, অরূপ সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘‘রাস্তায় নামলে তো ভাল। অনেকে ওঁকে বলেন প্যারাস্যুটে আসা নেতা। উনি এ বার পুলিশ ছাড়া, সরকারি সমর্থন ছাড়া রাস্তায় নেমে প্রমাণ করে দিন, উনি প্যারাস্যুটে আসেননি। এটাই তো আগুনে পুড়ে খাঁটি সোনা হওয়ার সময়।’’ আবার শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দেগে নিলম্বিত হওয়া মুখপাত্র ঋজু দত্তের বক্তব্য, ‘‘নেতৃত্ব রাস্তায় নামছেন খুব ভাল কথা। কিন্তু দেরি হয়ে গেল না? ফল ঘোষণার পর থেকে লক্ষ লক্ষ কর্মী আক্রান্ত ছিলেন। বহু কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন। তাঁরা কোথাও বিজেপির নেতাদের সাহায্য নিয়ে, কোথাও হাতেপায়ে ধরে কোথাও বা জরিমানা দিয়ে ঘরে ফিরেছেন। সে দিন যদি নেতৃত্ব নামতেন, কর্মীরা মনোবল পেতেন।’’

Advertisement

বিজেপি অবশ্য এই কর্মসূচি নিয়ে নির্লিপ্ত থেকেও কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে। ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী বলেন, ‘‘গণতন্ত্রে বিরোধী দল তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচি করবেন, এর মধ্যে নতুন করে বলার কী আছে। কিন্তু অভিষেকের বিরুদ্ধে মানুষের যে ক্ষোভ রয়েছে, তার প্রতিফলন হলে কী হবে বলতে পারব না।’’ সিপিএমের তরুণী নেত্রী দীপ্সিতা ধরের বক্তব্য, ‘‘কর্মীরা আক্রান্ত হলে নেতারা পাশে দাঁড়াবেন, সেটাই দস্তুর। কিন্তু অভিষেক যদি ফলতায় জাহাঙ্গির খানের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন, তা হলে তাঁকে নির্বাচনী লড়াই ছেড়ে পালাতে হত না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement