School teachers

স্কুলশিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে বিকাশ ভবনকে ১৪ দফা প্রস্তাব এবিটিএ-র, দাবি ডিএ মেটানোরও

বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পদ্ধতিতে শিক্ষকদের পদোন্নতি হয়, অনেকটা সে রকম ভাবেই স্কুল শিক্ষকদের পদোন্নতির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সেই জন্য একটি ছ’সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:২৮
Share:

—নিজস্ব চিত্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পদ্ধতিতে শিক্ষকদের পদোন্নতি হয়, অনেকটা সে রকম ভাবেই স্কুল শিক্ষকদের পদোন্নতির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সেই জন্য একটি ছ’সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। শীঘ্রই রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা তাদের। তার আগে নিজেদের ১৪ দফা বক্তব্য বিকাশ ভবনকে জানাল নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি (এবিটিএ)। সংগঠনের আশঙ্কা, পদোন্নতির বিষয়টি শুধুমাত্র সরকার পোষিত স্কুলের সহ-শিক্ষক বা সহ-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে পারে। বিবেচনার বাইরে থেকে যেতে পারেন প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষাকর্মীরা। এবিটিএ-র বক্তব্য, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, গ্রন্থাগারিক, পার্শ্ব শিক্ষক, কারিগরি শিক্ষক, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-সহ সকল শিক্ষাকর্মীকেই পদোন্নতির আওতায় আনতে হবে। তার জন্য একটি নীতি তৈরি হোক। দূর করা হোক বেতন বৈষম্য। এবিটিএ-র দেওয়া চিঠিতে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানোরও দাবি জানানো হয়েছে।

Advertisement

শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, স্কুলে শিক্ষকদের এতদিন পদোন্নতির সুযোগ ছিল না। কেউ সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগ দিলে তাঁর অবসরও হত সহকারী শিক্ষক হয়েই। একজন প্রধান শিক্ষকও ওই পদেই সারা জীবন কাজ করে অবসর নিতেন। নতুন শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, স্কুল শিক্ষকদেরও কাজের ভিত্তিতে পদোন্নতি হবে। তার মাপকাঠি ঠিক করার কাজ করছে ওই ছ’সদস্যের কমিটি। বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন শিক্ষকদের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং প্রফেসর— এই তিনটি ভাগে পদোন্নতি হয়, স্কুলের শিক্ষকদেরও সে রকম পদোন্নতি হতে পারে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের যেমন ‘অ্যাকাডেমিক পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’এর (এপিআর) মাধ্যমে পদোন্নতি হয়, স্কুল শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও তেমন চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এপিআর-এ এক জন শিক্ষকের পড়ানোর পাশাপাশি কী বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন, গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন কি না, কোনও বই প্রকাশ করছেন কি না, দেশে বা দেশের বাইরে কোথাও গবেষণাপত্র পড়তে যাচ্ছেন কি না, পড়ুয়াদের নিয়ে ক্লাসরুম শিক্ষার বাইরে কোথাও শিক্ষামূলক ভ্রমণ করতে যাচ্ছেন কি না, এ সব নানা দিক দেখা হয়। পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর বা প্রফেসর হতে গেলে ইন্টারভিউও দিতে হয়। স্কুল শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও অনেকটা এরকম হতে পারে। ওই শিক্ষক প্রয়োজনে স্কুলে অতিরিক্ত ক্লাস নিচ্ছেন কি না, শিক্ষামূলক ভ্রমণ করছেন কি না, স্কুলে পড়ানো ছাড়া স্কুলে প্রশাসনিক কাজও করছেন কি না, তা দেখা হবে।

এবিটিএ-র বক্তব্য, পদোন্নতির মাপকাঠি হিসাবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পঠনপাঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এর বাইরে অন্য কাজকর্ম চাপিয়ে দিলেন শিক্ষাদানের আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। পাশাপাশি মূল্যায়নের জন্য নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করা উচিত। সেখানে যাতে কোনও ভাবেই স্বজনপোষণ না হয়, তা-ও নিশ্চিত করা জরুরি। এবিটিএ-র দাবি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে অন্যতম মাপকাঠি হওয়া উচিত— অভিজ্ঞতা। বেতন কাঠামোতেও বৈষম্য রাখলে চলবে না। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো তৈরি করতে হবে। অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদেরও একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। সকল স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহ শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, গ্রন্থাগারিকদের ৮-১৬-২৪ বছরের অভিজ্ঞতাজনিত ইনক্রিমেন্টের তথা ‘কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট স্কিম’ কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে এবিটিএ।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement