বালি

ক্লাবকে চটিয়ে ভুল করেছি, অন্য সুর কলেজ-মালিকের

জমি দখল ঘিরে বিবাদের জেরেই বালির সুরেন্দ্রলাল দাস বিএড কলেজে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন কলেজের সামনে থাকা ক্লাবের সদস্য ও কয়েক জন স্থানীয় বাসিন্দা। আগুন লাগানো হয়েছিল কলেজের মালিকের বাড়ি-গাড়িতেও। বুধবার এমন অভিযোগ করেছিলেন কলেজের মালিক বিষ্ণুপদ দাস নিজেই। ঘটনার এক দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার নিজের ‘কৃতকর্মের সাফাই’ দিয়ে তিনিই বললেন, ‘‘ক্লাবের বিপক্ষে গিয়ে ঠিক করিনি।’’

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০১৬ ০০:৩১
Share:

বিষ্ণুপদ দাস

জমি দখল ঘিরে বিবাদের জেরেই বালির সুরেন্দ্রলাল দাস বিএড কলেজে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন কলেজের সামনে থাকা ক্লাবের সদস্য ও কয়েক জন স্থানীয় বাসিন্দা। আগুন লাগানো হয়েছিল কলেজের মালিকের বাড়ি-গাড়িতেও। বুধবার এমন অভিযোগ করেছিলেন কলেজের মালিক বিষ্ণুপদ দাস নিজেই। ঘটনার এক দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার নিজের ‘কৃতকর্মের সাফাই’ দিয়ে তিনিই বললেন, ‘‘ক্লাবের বিপক্ষে গিয়ে ঠিক করিনি।’’

Advertisement

বুধবার সকালে কলেজ ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ দিন হাওড়া আদালতে বিচারক ধৃতদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এ দিনই বিষ্ণুবাবুকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী তন্ময় নস্করকে আটক করেছে পলিশ। আবার বিষ্ণুবাবুর বন্ধু সুভাষচন্দ্র দাসের বাড়িতে ইট মারার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন রবি মণ্ডল নামে এক যুবকও। এলাকায় রয়েছে কড়া পুলিশি পাহারা। তা সত্ত্বেও এ দিন সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতে বসে ‘খুব ভয় করছে’ বলে মন্তব্য করেন বিষ্ণুবাবু।

কিন্তু কেন এত ভয়?

Advertisement

প্রথমে স্পষ্ট করে কিছু বলতে না চাইলেও পরে বিষ্ণুবাবু বলেন, ‘‘যখন সিপিএম সংগঠন করতাম, তখন মনে খুব জোর ছিল। সেই জোর নিয়েই ভাল কিছু করার তাগিদে কলেজ বানিয়েছি। পরে রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। তবে এখনকার নেতাদের সঙ্গেও আমার সম্পর্ক খারাপ নয়।’’ অভিযুক্ত ক্লাবের এক সময়ের একনিষ্ঠ সদস্য পরে আরও কিছুটা ভেঙে পড়ে বলেছেন, ‘‘ক্লাবের এই জমির বিষয়ে না ঢুকলেই ভাল করতাম। যাঁর জমি, তিনি বিষয়টা বুঝে নিতেন। এলাকার সকলে যখন ক্লাবের পক্ষে, তখন একা আমি জমির বিষয়ে মাথা গলিয়ে হিরো হতে গিয়েই ভুল করেছি। এখন সবাই আমার বিপক্ষে। তা-ই ভয় হচ্ছে।’’

ছাত্রাবস্থা থেকে রাজনীতি করা বিষ্ণুবাবু এক সময়ে হাওড়া জেলা পরিষদের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি করতেন। এলাকায় সক্রিয় সিপিএম কর্মী হিসেবেই পরিচিত বিষ্ণুবাবু ২০০৫ সালে স্থানীয় সিপিএম বিধায়ক পদ্মনিধি ধরের সহযোগিতায় আনন্দনগর উচ্চ বিদ্যালয় ভাড়া নিয়ে সান্ধ্য বিএড কলেজ চালু করেন। সেই সময়ে ওই কলেজের অধ্যক্ষ সুবোধ মণ্ডল এ দিন বলেন, ‘‘আমার প্রতিবেশী হাওড়া পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ারের থেকে বিষ্ণুর সম্পর্কে ভাল কথা শুনে কলেজের অধ্যক্ষ হতে রাজি হয়েছিলাম। পরে অবশ্য পরিবেশ ভাল না লাগায় ছেড়ে দিই।’’ পদ্মনিধি ধর এ দিন বলেন, ‘‘বিষ্ণু আমার ছাত্র ছিল। তাই ওর কথায় সায় দিয়ে কলেজ তৈরিতে সহযোগিতা করেছিলাম।’’

স্থানীয় সূত্রের খবর, বাম আমলে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও উচ্চস্তরের নেতাদের সহযোগিতায় জমি কিনে দু’টি কলেজ তৈরি করলেও রাজনৈতিক পালাবদলের পরে নিজেকেও বদলে ফেলেন বিষ্ণুবাবু। তবে তাঁর সঙ্গে শাসক দলের কোনও নেতার ঘনিষ্ঠতা ছিল না বলেই এ দিন দাবি করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের সভাপতি বিকাশ দে। তিনি বলেন, ‘‘আর পাঁচ জনের সঙ্গে যা সম্পর্ক, ওঁর সঙ্গে তার বাইরে কিছু ছিল না।’’

তবে এত বড় ঘটনার খবর পেয়ে তা থামাতে শাসক দলের স্থানীয় নেতারা কেন ব্যবস্থা নেননি, সে বিষয়ে তৃণমূলের হাওড়া জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী অরূপ রায় এ দিন বলেন, ‘‘সংগঠনের গাফিলতি ছিল বলেই এটা হতে পেরেছে। তারা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। দল সবই দেখছে, লক্ষ করছে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ তবে স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘উনি কেন এ কথা বলেছেন, তা আমি জানি না। এতে তো দলের কোনও বিষয় নেই। খবর পেয়েই পুলিশ-প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলার কাজে কারও নাক গলানো উচিত নয়। তাই দলের কেউ ওখানে গেলে তা অন্য রকম বার্তা দিত।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement