Dearness Allowances

বিধানসভা ভোটের মাঝেই ডিএ বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি আটকে, নির্বাচন কমিশনের অনুমতির অপেক্ষায় অর্থ দফতর

কমিশনের ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা সম্ভব নয়। ফলে ১ এপ্রিল থেকে বর্ধিত হারে ডিএ কার্যকর হওয়ার যে আশা ছিল, তা আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১৬
Share:

কমিশনের সবুজ সঙ্কেতর অপেক্ষায় নবান্ন। —ফাইল চিত্র।

চলতি বছরের বাজেটে ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে ঘোষণার পর প্রায় আড়াই মাস কেটে গেলেও এখনও সেই সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। ফলে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও জল্পনা। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গেলে বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি প্রয়োজন। সেই কারণেই রাজ্যের তরফে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। পরে সেই চিঠি দিল্লিতে কমিশনের কেন্দ্রীয় দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। সেখান থেকে অনুমতি পেলেই এ বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হবে নবান্নকে।

Advertisement

প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, কমিশনের ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা সম্ভব নয়। ফলে ১ এপ্রিল থেকে বর্ধিত হারে ডিএ কার্যকর হওয়ার যে আশা ছিল, তা আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিলেন। জানানো হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এবং মে মাসের বেতনের সঙ্গে কর্মীরা বাড়তি অর্থ পাবেন। সাধারণত বাজেট ঘোষণার পর দ্রুতই এই ধরনের আর্থিক সিদ্ধান্তের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। তাই এপ্রিলের আগেই সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ হবে বলে আশা করেছিলেন কর্মচারীরা। কিন্তু তা না হওয়ায় নবান্নের অন্দরে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনী আচরণবিধি জারি থাকায় নতুন আর্থিক সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এই পরিস্থিতিতে নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। অন্য দিকে, কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, ঘোষণার পর এত দেরি হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং আর্থিক পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক নির্বাচনী জনসভাগুলিতে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কর্মচারীদের প্রাপ্য সুবিধা তাঁরা অবশ্যই পাবেন। তবে কবে নাগাদ বিজ্ঞপ্তি জারি হবে, তা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত অনুমতির উপর।

Advertisement

নবান্নের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আশা করছি, শীঘ্রই আমরা ডিএ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারব। সেই বিজ্ঞপ্তি জারি চলতি মাসেই হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মে মাসের বেতনের সঙ্গেই সরকারি কর্মচারীরা ঘোষিত ডিএ পেতে পারবেন।’’ সব মিলিয়ে, ঘোষণার পরেও ডিএ বৃদ্ধি কার্যকর না হওয়ায় রাজ্য প্রশাসন ও কর্মচারী মহলে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। এখন সকলের নজর কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement