জিএসটি নিয়ে রাজ্যগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরিতে এ বার অমিত মিত্রই ভরসা অরুণ জেটলির।
আজ রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের এমপাওয়ার্ড কমিটির বৈঠকে অমিত মিত্র সর্বসম্মতি ক্রমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। অসুস্থতার জন্য অমিতবাবু অবশ্য এই বৈঠকে হাজির ছিলেন না। পরে জেটলিই তাঁকে ফোন করে চেয়ারম্যান হওয়ার খবর জানান।
অর্থমন্ত্রীদের এমপাওয়ার্ড কমিটির চেয়ারম্যান বরাবরই বিরোধী দল শাসিত রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের করা হয়। দীর্ঘদিন এই দায়িত্বে ছিলেন পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত। ভ্যাট চালুর সময়ে এবং জিএসটি চালু করার চেষ্টার প্রথম পর্বে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। অমিতবাবু পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় অর্থমন্ত্রী, যিনি এমপাওয়ার্ড কমিটির চেয়ারম্যান হলেন। বামফ্রন্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইউপিএ-জমানায় বিহারের বিজেপির অর্থমন্ত্রী সুশীল মোদী চেয়ারম্যান হন। তার পর ২০১৩-য় ওই পদে আসেন জম্মু-কাশ্মীরের অর্থমন্ত্রী আব্দুল রহিম রাঠের। রাঠের অবশ্য বিরোধী দলের অর্থমন্ত্রী ছিলেন না। কারণ কাশ্মীরে সে সময়ে কংগ্রেস-ন্যাশনাল কনফারেন্সের জোট চলছিল। এর পর মোদী জমানায় কেরলের কংগ্রেসি অর্থমন্ত্রী কে এম মানি চেয়ারম্যান হন। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে তিনি পদত্যাগ করায় তিন মাস এই পদটি ফাঁকাই পড়ে ছিল।
আজ অমিত মিত্র এমপাওয়ার্ড কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ায় অনেকে অবশ্য রাজনৈতিক সমীকরণ দেখছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার জিএসটি নিয়ে মোদী সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। বামেরা যাকে সারদায় সিবিআইয়ের ধীরে চলো নীতির প্রতিদান হিসেবে দেখছেন। চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও বাকিরা যখন জেএনইউ-কাণ্ড নিয়ে সরব হয়েছেন, তখন একমাত্র তৃণমূলই দ্রুত জিএসটি বিল পাশের দাবি তুলেছিল। তাদের যুক্তি, কংগ্রেস, বিজেপির রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্যই জিএসটি চালু হচ্ছে না। অথচ জিএসটি চালু হলে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলি উপকৃত হবে।
অর্থ মন্ত্রকের যুক্তি, অমিতবাবু অর্থনীতিবিদ। বহু দিন বণিকসভা ফিকি-র মহাসচিবের দায়িত্ব সামলেছেন। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের মধ্যে তিনি অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তি। এই মূহূর্তে তিনিই যোগ্যতম। অর্থ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত সিন্হার মন্তব্য, ‘‘আমরা আশাবাদী, বাজেট অধিবেশনেই জিএসটি বিল পাশ হয়ে যাবে। সব রাজ্য, সব দলই একে সমর্থন করছে।’’
অমিতবাবুর সামনে অবশ্য যথেষ্ট কাজ পড়ে রয়েছে। জিএসটি চালুর জন্য লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের পর মোদী সরকারকে তা রাজ্যসভায় পাশ করাতে হবে। এর পর জিএসটির নিজস্ব বিলটিও পাশ করাতে হবে। তৈরি হবে নিয়মাবলি। যেখানে অর্থমন্ত্রীদের এমপাওয়ার্ড কমিটির ভূমিকা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ব্যবস্থায় করের হার ঠিক করার ক্ষেত্রেও রাজ্যগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরির কাজ বাকি রয়েছে। ব্যবসার পরিমাণ কতখানি হলে তা জিএসটি-র আওতায় আসবে, সে বিষয়েও রাজ্যগুলির নানা মত। করের হার, জিএসটি পরিষদ এবং শিল্পোন্নত রাজ্যগুলির জন্য অতিরিক্ত কর নিয়ে কংগ্রেস আপত্তি তুলেছে। এ বিষয়েও অমিতবাবুকে ঐকমত্য তৈরি করতে হবে।