Shah-Samik Meeting

দিল্লিতে তলব করে শমীকের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করলেন শাহ, মতুয়া, এসআইআর, সংখ্যালঘু বুথ? আলোচনা হল কী নিয়ে?

গত সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কলকাতায় এসেছিলেন শাহ। ফিরে গিয়েছেন বুধবার বিকেলে। পরের দিন অর্থাৎ নতুন বছরের প্রথম দিনেই দিল্লি থেকে তলব পান শমীক। ১ জানুয়ারি বিকেলেই দিল্লি রওনা হয়ে যান রাজ্য বিজেপির সভাপতি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২৬
Share:

অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গ সফর সেরেই রাজ্য বিজেপির সভাপতিকে দিল্লিতে তলব করলেন অমিত শাহ। একান্ত বৈঠক করলেন নিজের বাসভবনে। কী বিষয়ে আলোচনার জন্য শমীক ভট্টাচার্যকে শাহের এই ‘জরুরি তলব’, তা নিয়ে রাজ্য বিজেপি-র কেউই মুখ খোলেননি। তবে নির্বাচনমুখী পশ্চিমবঙ্গের বিষয়ে খুব তাড়াতাড়ি কিছু রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শাহ চূড়ান্ত আলোচনা সেরে নিয়েছেন বলে বিজেপি সূত্রের অনুমান।

Advertisement

গত সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কলকাতায় এসেছিলেন শাহ। ফিরে গিয়েছেন বুধবার বিকেলে। পরের দিন অর্থাৎ নতুন বছরের প্রথম দিনেই দিল্লি থেকে তলব পান শমীক। ১ জানুয়ারি বিকেলেই দিল্লি রওনা হয়ে যান। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টে নাগাদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে বৈঠকে বসেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি। বিজেপি-র একটি সূত্রের দাবি, নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা-সহ কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয়, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিজেপির ভূমিকা নিয়ে শাহ আলোচনা করতে পারেন রাজ্য নেতৃত্বের অনুমান ছিল। তার পাশাপাশি মতুয়াদের সমস্যা নিয়েও শাহ কথা বলে পারেন বলে অনেকের ধারণা। শমীক সে সব বিষয়ে কথা বলার প্রস্তুতি নিয়েই বৈঠকে গিয়েছিলেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে।

শাহের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরোনোর পরে শমীক আলোচনার বিষয়ে কোথাও মুখ খোলেননি। তবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে বিশদ আলোচনা যে হয়েছে, তার আভাস রয়েছে শমীকের মন্তব্যে। কারণ, বৈঠকের পর নিজের বাসভবনে ফিরে এক সাংবাদিক বৈঠকে শমীক বলেছেন, ‘‘স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে অমিত শাহের চেয়ে বড় ভোটকুশলী এখনও পর্যন্ত কেউ জন্মগ্রহণ করেননি, সেটা বার বার তিনি প্রমাণ করেছেন। কিন্তু মানুষ তো। বা তাঁর অধীনে যে মানুষগুলো কাজ করছেন, তাঁদেরও ভুলত্রুটি থাকে, বিচ্যুতি থাকে। তার কারণে একবার আমরা অমিত শাহের আশা পূরণ করতে পারিনি। কিন্তু অমিত শাহ যখন বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এক অপ্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে এ বার নতুন সরকার তৈরি হবে। তৃণমূল কার্যত চলে গিয়েছে। সময়ের অপেক্ষা।’’

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে, সাংসদ-বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন শাহ। বৈঠক করে গিয়েছেন আরএসএস নেতৃত্বের সঙ্গেও। কলকাতা ও শহরতলির ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছে। বৈঠক হোক বা কর্মী সম্মেলন, সর্বত্রই কয়েকটি বিষয়ে শাহ সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে গিয়েছেন। বুথ স্তরে দ্রুত লোকবল বাড়ানো, আগামী দু’মাসে নিবিড় জনসংযোগে মন দেওয়া, অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত সমস্যাকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য তথা গোটা দেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হিসাবে তুলে ধরে জোরদার প্রচার করা। তাই শুক্রবারের বৈঠকে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা, প্রচার এবং কয়েকটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে শমীকের সঙ্গে শাহের কথা হয়ে থাকতে পারে বলে অনেকের ধারণা। পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু প্রধান এলাকাগুলিতে বুথ আগলানোর ব্যবস্থা কী ভাবে হবে, সে বিষয়েও কথা হয়ে থাকতে পারে বলে খবর।

এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে মতুয়া তথা শরাণার্থীদের একাংশ কী ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন, সে বিষয়টিও একাধিক বার উঠেছিল শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে। মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর-সহ বাকিদের শাহ একাধিক বার আশ্বস্ত করে গিয়েছেন যে, ভোটার তালিকা থেকে শরণার্থীদের নাম বাদ পড়া রুখতে তিনি কোনও না কোনও ব্যবস্থা করবেন। শুক্রবার শমীকের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে সেই বিষয় নিয়েও কোনও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে বিজেপি সূত্রের অনুমান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement