Budget Season of West Bengal Assembly

বিধানসভার শেষ অধিবেশনেও সিবিআই ইডির বিরুদ্ধে ফের নিন্দা প্রস্তাব আসছে, আলোচনা হবে এসআইআর হয়রানি নিয়েও

এসআইআরের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ নিয়েও প্রস্তাব আনবেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দু’টি বিষয়কে বিধানসভার অধিবেশনকক্ষে তুলে ধরে বিরোধী দল বিজেপিকে নাস্তানাবুদ করাই লক্ষ্য তাঁদের, এমনটাই জানাচ্ছেন তৃণমূল পরিষদীয় দলের এক প্রবীণ সদস্য।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১৩
Share:

—প্রতীকী ছবি।

আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বসবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার শেষ অধিবেশন। সেই অধিবেশনে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ৩-৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চলা এই অধিবেশনে দু’টি পৃথক প্রস্তাব আসবে বলে জানিয়েছে তৃণমূল পরিষদীয় দল। প্রথমটি হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর)-এ সাধারণ মানুষের হয়রানির বিরুদ্ধে। দ্বিতীয়টি হবে সিবিআই ও ইডিকে প্রতিহিংসার রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যবহারের বিরুদ্ধে। বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, এই দু’টি প্রস্তাব আনবেন রাজ্য সরকারের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, সংসদের বাজেট অধিবেশনে ও তৃণমূল এই দু’টি বিষয় নিয়ে সরব হবে বলেই সূত্রের খবর। সেই রণকৌশল কার্যকর করতে দলের দুই সর্বোচ্চ নেতা মুখ্যমন্ত্রী ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার দিল্লি যাচ্ছেন।

Advertisement

নতুন বছরের জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস ও তাঁর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। সেই হানার কথা জানতে পেরে প্রতীকের বাসভবন ও অফিসে ছুটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে থাকা ফাইল ইডির আধিকারিকদের হাত থেকে নিয়েও এসেছিলেন তিনি। সঙ্গে অভিযোগ করেছিলেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলের রণকৌশলের নথি ও তথ্য ছিনতাই করতেই এসেছিল ইডি। সেই ঘটনা পৌঁছে গিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে। এ বার সেই ঘটনার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল পরিষদীয় দল। বিধানসভা অধিবেশনে কার্যবিবরণী ঠিক করতে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে বৈঠক বসবে। সেই বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার দিনক্ষণ ঠিক হয়ে যাবে বলেই বিধানসভার সচিবালয় সূত্রের খবর।

পাশাপাশি এসআইআরের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ নিয়েও প্রস্তাব আনবেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দু’টি বিষয়কে বিধানসভার অধিবেশনকক্ষে তুলে ধরে বিরোধী দল বিজেপিকে নাস্তানাবুদ করাই লক্ষ্য তাঁদের, এমনটাই জানাচ্ছেন তৃণমূল পরিষদীয় দলের এক প্রবীণ সদস্য। অন্য দিকে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র নামে গোটা রাজ্য জুড়ে সাধারণ মানুষ অহেতুক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকে আত্মহত্যাও করেছেন। এর বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট সোচ্চার হয়ে মাঠে-ময়দানে প্রচার চালাচ্ছে। এ বার বিধানসভার অধিবেশনে আলোচনা চেয়ে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রুল ১৮৫ অনুসারে বিধানসভায় লিখিত নিন্দা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি।

Advertisement

বিধানসভার শেষ অধিবেশনের উপর নজর রেখে চলছে বিজেপি পরিষদীয় দল। গত পাঁচ বছরে স্পিকারের ডাকা কোনও বৈঠকে যোগদান করেননি বিজেপি বিধায়কেরা। তাই স্পিকারের ঘরে যে কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠক বসবে সেখানেও তাঁরা অংশ নেবেন না বলেই খবর। তবে, বিধানসভার অধিবেশনে আনা সব আলোচনাতেই সক্রিয় অংশগ্রহণ করবেন তাঁরা, এমনটাই জানিয়েছেন বিজেপি পরিষদীয় দলের এক সদস্য। তাঁর কথায়, ‘‘এসআইআর নিয়ে বিধানসভার অন্দরে আলোচনা প্রথম বার হলেও, গত পাঁচ বছরে দু'বার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সিবিআই ও ইডির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব এনে আলোচনা করেছে শাসকদল। সে ক্ষেত্রে যোগ্য জবাব দিয়েছে বিজেপি। এ বারও তার ব্যতিক্রম হবে না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement