—প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শেষে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের তোড়জোড় চলছে। সুপ্রিম কোর্টের সর্বেশেষ আদেশের প্রেক্ষিতে প্রয়োজন হলে ওই দিন প্রথম তালিকা দিয়ে পরে আবার অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের রাস্তা খোলা রয়েছে। কিন্তু দফায় দফায় তালিকা প্রকাশ হলে মানুষের বিপদ ও ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। নির্ভুল তালিকা এবং আবেদনের পর্যাপ্ত সময়ের জন্য তারা চাপ বাড়াচ্ছে নির্বাচন কমিশনের উপরে। বিজেপি অবশ্য ‘অনুপ্রবেশকারী মুক্ত’ তালিকা নিয়েই সরব।
সিপিএম তাদের সব জেলা নেতৃত্বকে বার্তা দিয়েছে, ২৮ তারিখের তালিকার দিকে নজর রাখার। বুথ প্রতি বেশ কিছু নাম ‘অন্যায়’ ভাবে ছেঁটে ফেলা এবং বিশেষত, সংখ্যালঘু অংশের মানুষের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে বলে তাদের অভিযোগ। তালিকায় বড়সড় গোলমাল থাকলে প্রয়োজনে আগামী ১ বা ২ মার্চ বিক্ষোভে নেমে পড়া হবে বলে জানিয়ে রেখেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে কলকাতায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজের সূচনা করে ১ তারিখ থেকেই সিপিএমের বিধানসভা ভোটের প্রচার আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হওয়ার কথা।
ভোটার তালিকার বাকি অংশের সংশোধন প্রসঙ্গে তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের বক্তব্য, ‘‘২৮ তারিখে যাঁদের নাম বেরোবে, দেখাই যাবে, কিন্তু কোনও কারণে যাঁরা বাদ যাবেন, তাঁদের আবেদন করা ও তা বিবেচনার জন্য কোনও ভাবেই যেন সময় কম না হয়। এটা কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে।’’
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর মতে, ‘‘ভোটার তালিকার গোটা প্রক্রিয়া ঘেঁটে ফেলা হয়েছে! কমিশনের ভূমিকা বিপজ্জনক। আর দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষকদের বাঁচাতে গিয়ে রাজ্য সরকার যেমন সব শিক্ষককে বিপদে ফেলেছিল, একই ভাবে ভুয়ো ভোটার বাঁচাতে গিয়ে সব ভোটারকে তারা বিপাকে ফেলেছে। এখন এর মধ্যে বিচার বিভাগকে ঢুকতে হয়েছে। ভাবা যায়!’’ অন্যায় ভাবে নাম বাদ গেলে প্রবল প্রতিবাদ হবে বলে জানিয়েছেন সেলিম ও সুজন। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সেলিমও এ দিন বলেছেন, ‘‘কমিশন ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। তৃণমূল আগেই বুথ থেকে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। এখন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দিতে চাইছে!’’ তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এ মহিলারা সমস্যায় পড়েছেন বেশি।
নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘যা হচ্ছে, খুব সুন্দর হচ্ছে। বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত লোকজন নথি আর তথ্য ছাড়া কিছু দেখবেন না। আগামী ২৮ তারিখ ভোটার তালিকা বেরোবে। তার পর যারা সন্দেহজনক, তাদের জন্য অতিরিক্ত তালিকা বেরোবে। তাদের মোট তিনটে জিনিস দেখাতে হবে। এক, তারা ভারতীয় কি না। দ্বিতীয়ত, তাদের ডোমিসাইল শংসাপত্র আছে কি না, এবং তাদের বয়স ১৮ বছর হয়েছে কি না।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘এই সংক্রান্ত কোনও নথি বাংলাদেশি মুসলমানেরা দেখাতে পারবে না।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে