Ritabrata Banerjee

আন্দামানের জেলে তিন বাঙালি বিপ্লবীর মূর্তি চাই, রাজ্যসভায় দাবি ঋতব্রতের, শূন্যপ্রহরে স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র ধারার উল্লেখ

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র ধারার কথা উল্লেখ করে ঋতব্রত এই তিন বাঙালি বিপ্লবীর পরিচয় এবং কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ। ১৯০৯ সালে ‘আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলা’য় মোট ১২ জন বিপ্লবীকে আন্দামানের জেলে পাঠিয়েছিল ব্রিটিশ পুলিশ। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন বারীন্দ্র, উল্লাসকর এবং হেমচন্দ্র।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৯
Share:

বুধবার রাজ্যসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

আন্দামান সেলুলার জেলে তিন বাঙালি বিপ্লবী বারীন্দ্র কুমার ঘোষ, উল্লাসকর দত্ত এবং হেমচন্দ্র কানুনগোর মূর্তি স্থাপনের দাবি তুললেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সংসদের উচ্চকক্ষে শূন্যপ্রহরের (জ়িরো আওয়ার) আলোচনায় এই দাবি তোলেন তিনি। সেই সঙ্গে নাম-না করে বিজেপির উদ্দেশে খোঁচা দিয়ে ঋতব্রত বলেন, ‘‘এই সিংহহৃদয়ের বাঙালি বিপ্লবীরা কখনও ব্রিটিশদের কাছে মুচলেকা দেননি।’’

Advertisement

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র ধারার কথা উল্লেখ করে ঋতব্রত এই তিন বাঙালি বিপ্লবীর পরিচয় এবং কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। ১৯০৯ সালে ‘আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলা’য় মোট ১২ জন বিপ্লবীকে আন্দামানের জেলে পাঠিয়েছিল ব্রিটিশ পুলিশ। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন বারীন্দ্র, উল্লাসকর এবং হেমচন্দ্র। এই ত্রয়ীকেই নির্মম ব্রিটিশ নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছিল। বিবরণ দিতে গিয়ে ঋতব্রত জানান, উল্লাসকরকে বৈদ্যুতিক শক দেবে বলে ঠিক করেছিল ব্রিটিশ প্রশাসন। কিন্তু আন্দামান জেলে তখন বিদ্যুতের কোনও সংযোগ ছিল না। অতঃপর, কলকাতা থেকে ব্যাটারি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

‘যুগান্তর’ এবং ‘অনুশীলন সমিতি’র মতো সশস্ত্র বিপ্লবী সংগঠনে এই ত্রয়ী কী ভাবে কাজ করতেন, তারও বিবরণ দেন তৃণমূল সাংসদ। জানান, বারীন্দ্র কুমারই বোমা তৈরির ইউনিট তৈরি করেছিলেন। হেমচন্দ্র আধুনিক অস্ত্র তৈরির কারিগরি জানতে প্যারিসে পাড়ি দিয়েছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপ্লবী সংগঠকদের সঙ্গে দেখা করতে। সেই পর্বে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্তও। এই বাঙলি বিপ্লবীদের ইতিহাসকে উদ্‌যাপন করতেই সেলুলার জেলে তাঁদের মূর্তি নির্মাণের দাবি তোলেন ঋতব্রত।

Advertisement

বাম ছাত্র আন্দোলনের নেতা থাকার সময় থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলনের সশস্ত্র ধারা সম্পর্কে ঋতব্রতের আগ্রহ এবং পড়াশোনার ছাপ পাওয়া যেত। ২০১২ সালে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে বেদব্রত পাইন পরিচালিত ‘চিটাগং’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। মনোজ বাজপেয়ী, রাজকুমার রাও, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত সেই ছবি ঋতব্রতই উদ্যোগ নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার একটি মাল্টিপ্লেক্সে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্রদের। তৃণমূল সাংসদ হিসাবেও সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। রাজ্যের শাসকদল যখন ২০২৬ সালের ভোটেও বাংলা এবং বাঙালি ‘লাইন’ অনুসরণ করছে তখন বুধবার ঋতব্রতের দাবি সময়ের কারণেই ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের অনেকের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement