প্রয়াত স্বামীর জমি হাতাতে ‘নকল’ স্বামীকে নিয়ে জালিয়াতি! অভিযুক্ত মহিলা-সহ গ্রেফতার তিন

অভিযোগকারী মনোয়ার হোসেন পূর্বস্থলী থানার গাছা গ্রামে বাসিন্দা। তাঁর চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আবদুল্লা শেখের সঙ্গে খাদিজার বিয়ে হয়েছিল। তবে ২০২০ সালের ৭ এপ্রিল অকালমৃত্যু হয় আবদুল্লার।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:০৮
Share:

প্রয়াত স্বামীর মৃত্যুর বছরেই তাঁর জমি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অন্য এক জনকে স্বামী সাজিয়ে জালিয়াতি করেছেন এক মহিলা। প্রতীকী ছবি।

অকালপ্রয়াত স্বামীর জমি হাতাতে এক ব্যক্তিকে স্বামী সাজিয়ে জালিয়াতি করলেন এক মহিলা। ঘটনায় তাঁর মা-সহ মোট ৫ জন জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের মধ্যে ওই মহিলা-সহ ৩ জনকে সোমবার গ্রেফতার করেছে বর্ধমানেরকাটোয়া থানার পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম খাদিজা খাতুন (বিবি), আলিবর্দি শেখ এবং আঙ্গুরা বিবি। খাদিজার বিরুদ্ধেই এক ব্যক্তিকে স্বামী সাজিয়ে জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর মা আঙ্গুরা। বাকিরাও খাদিজার সঙ্গে যোগসাজসে জড়িত বলে অভিযোগ। ধৃতদের মধ্যে আলিবর্দির বাড়ি কাটোয়ার গৌড়ডাঙায়। বাকি দু’জনের বাড়ি লোহাপোতা গ্রামে। সোমবার রাতে ওই ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

খাদিজার শ্বশুর তথা অভিযোগকারী মনোয়ার হোসেন পূর্বস্থলী থানার গাছা গ্রামে বাসিন্দা। তাঁর চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আবদুল্লা শেখের সঙ্গে খাদিজার বিয়ে হয়েছিল। তবে ২০২০ সালের ৭ এপ্রিল অকালমৃত্যু হয় আবদুল্লার। মানোয়ারের দাবি, স্বামীর অকালমৃত্যুর বছরখানেকের মধ্যেই শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে বাপেরবাড়িতে চলে গিয়েছিলেন খাদিজা। তবে প্রয়াত স্বামীর মৃত্যুর বছরেই তাঁর জমি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অন্য এক জনকে স্বামী সাজিয়ে জালিয়াতি করেছেন তিনি।

Advertisement

মনোয়ার পুলিশকে জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের এপ্রিলে আবদুল্লাকে একটি জমির দানপত্র করে দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী মোমেনা বিবি। সেই জমির দলিলের রেজিস্ট্রিও করে দিয়েছিলেন তিনি। এর কয়েক বছর পরে ২০১৯ সালের নভেম্বরে আবদুল্লার সঙ্গে কাটোয়ার লোহাপোতা গ্রামের বাসিন্দা আকির মোল্লার মেয়ে খাদিজা খাতুনের বিয়ে হয়। পরের বছর আবদুল্লার অকালমৃত্যু হলে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে বাপেরবাড়িতে চলে যান খাদিজা। মনোয়ারের অভিযোগ, ‘‘আমার ছেলের নামে থাকা সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে কাটোয়ার আমুল গ্রামের মদন দাস নামে এক জনকে আবদুল্লা সাজিয়ে জালিয়াতি করেছেন খাদিজা। ২০২০ সালে ১ জুন বর্ধমান ২ সাবরেজিষ্ট্রার অফিসে গিয়ে আমার ছেলের সই নকল করে ওই জমির দানপত্রের দলিল নিজের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন। এ বিষয়টি আমরা অনেক পরে জানতে পারি। রেজিস্ট্রি অফিসের একাংশকে হাত করেই কয়েক জন মিলে এই জালিয়াতি করেছেন।’’

পুলিশ সূত্রে খবর, খাদিজার বিরুদ্ধে এই অভিযোগে কাটোয়া থানার দ্বারস্থ হন মানোয়ার। ৫ জানুয়ারি খাদিজা খাতুন, মদন দাস, আলিবর্দি শেখ, আবদুস সাত্তার এবং আঙ্গুরা বিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement