গতি-বিধি না মেনেই দুর্ঘটনা, ধারণা কর্তাদের

এক রাত কাটতে না কাটতেই পর-পর দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে একটি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক জনের, অন্যটিতে জখম হন ১১ জন। গতি-বিধি না মানাতেই বারবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে নানা গাড়ি, মনে করছেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের কর্তারা।

Advertisement

সৌমেন দত্ত

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০১৭ ০২:১২
Share:

দুর্ঘটনাগ্রস্ত: এই সেই গাড়ি। বৃহস্পতিবার। নিজস্ব চিত্র

এক রাত কাটতে না কাটতেই পর-পর দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে একটি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক জনের, অন্যটিতে জখম হন ১১ জন। গতি-বিধি না মানাতেই বারবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে নানা গাড়ি, মনে করছেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের কর্তারা।

Advertisement

‘এবিপি আনন্দ’কে এ দিন দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, ‘‘(গাড়ি চালাতে গিয়ে) কেউ-কেউ বড্ড অধৈর্য হয়ে যাচ্ছেন। উন্মত্ত ভাবে গাড়ি চালানো, রেসিং করা চলবে না। পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ব্যাপারে পরিকল্পনা করা হয়েছে।’’ তাঁর সংযোজন: ‘‘বাইরের রাজ্য থেকে অনেক ট্রাক আসে। অনেক চালক মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালান। গ্যাসের গাড়ি আর পিচের গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।’’

বুধবার বর্ধমানের রথতলায় এক্সপ্রেসওয়েতে একটি গাড়ির উপরে পিচের ট্যাঙ্কার উল্টেই মৃত্যু হয় সাত জনের। এ দিন দুপুরে সেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে বড় জোর শ’পাঁচেক মিটার দূরে লাকুরডি-কালিন্দিপাড়ায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোয় উল্টে যায় একটি গাড়ি। মৃত্যু হয় গাড়ির আরোহী হুগলির তারকেশ্বরের ভাতাপূর্ব এলাকার বাসিন্দা সৌরভ মণ্ডলের (২১)। সকালে গলসির রাকোনা মোড়ে ট্রেলারের পিছনে বাস ধাক্কা মারায় জখম হন ১০ জন যাত্রী।

Advertisement

আরও পড়ুন: কাশীরামের ভিটেয় কুঠুরির হদিস

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ‘‘গাড়িটি কমপক্ষে ১২০-১৩০ কিলোমিটার বেগে ছুটছিল। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন বার ডিগবাজি খেয়ে উল্টো দিকের লেনে চলে যায়।’’ গলসির ক্ষেত্রেও জখম বাস-যাত্রী শ্রাবণী পাল অভিযোগ করেছেন, গতি বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি ট্রেলারে ধাক্কা মারে।

দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের দুর্গাপুরের প্রকল্প অধিকর্তা অরিন্দম হান্ডিক জানান, এই রাস্তায় ছোট গাড়ি ঘণ্টায় ৮০-১০০ এবং মালবাহী গাড়ি ৪০-৬০ কিলোমিটার গতিতে চলার নিয়ম। এ ছাড়া, রাস্তার ৪৬টি ‘কাট পয়েন্টে’ গাড়ির গতি ৪০ কিলোমিটারের বেশি থাকার কথা নয়। কিন্তু সে নিয়ম মানা হয় না বলে অভিযোগ। নবাবহাট, উল্লাস মোড়, গলসি-সহ বেশ কিছু জায়গায় ‘গো-স্লো’ বোর্ড লাগিয়েও লাভ হয়নি বলে জানান রাস্তাটির প্রকল্প ম্যানেজার (রক্ষণাবেক্ষণ) ঋতম পাল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, “এক্সপ্রেসওয়েতে বহু গাড়ি ঘণ্টায় ১৩০-১৪০ কিলোমিটার বেগে চলে। রাতে বেপরোয়া ভাবে চলে ট্রাকও।’’

এক্সপ্রেসওয়ের পাশে বেআইনি পার্কিংয়ের জন্য দুর্ঘটনা ঘটার অভিযোগ রয়েছে অনেক দিন। এ দিন গলসিতে এক্সপ্রেসওয়ের পাশে অবৈধ ভাবে গাড়ি দাঁড় করাতে দেয়নি পুলিশ। বর্ধমানের পুলিশ সুপার কুণাল অগ্রবাল বলেন, “এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন অংশে গতিবেগ নির্দিষ্ট করতে পরিবহণ দফতরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।’’ বর্ধমান, মেমারি, গলসি ও কাঁকসা-সহ মোট আটটি এলাকায় এক্সপ্রেসওয়েতে গতি মাপার ‘স্পিড-গান’ বসানোর জন্য পরিবহণ দফতরে প্রস্তাব পাঠিয়েছে জেলা পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement