ভাতারে প্রচারে কংগ্রেস প্রার্থী ধূর্জটিবিজয় মাজি। নিজস্ব চিত্র ।
ভাতার মানেই ভোলানাথ সেন। ভাতার মানেই কংগ্রেস। এক সময় এ কথা শোনা যেত সর্বত্র। ভাতার থেকে নির্বাচিত হয়ে রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী হয়েছিলেন কংগ্রেসের ভোলানাথ সেন, যাঁকে ভাতারের রূপকার বলা হয়। কিন্তু তার পরে ভাগীরথী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। অনেকেই মনে করেন, গত কুড়ি বছরে কখনও তৃণমূলের, কখনও বামেদের হাত ধরে চলতে গিয়ে ভাতারে নিজেদের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছে কংগ্রেস। দীর্ঘ ২০ বছর পরে এ বার ভাতারের ইভিএমে ‘হাত’ চিহ্ন দেখা যাবে। কংগ্রেসের আশা, চাকা এ বার উল্টো দিকে ঘুরবে।
২০০৬ বিধানসভা ভোটে ভাতারে কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন ইন্তেখাব আলম। তার পরে বিভিন্ন সময়ে তৃণমূল ও সিপিএমের সঙ্গে জোট বেঁধে ভোটে লড়েছে কংগ্রেস। কুড়ি বছর পরে এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে দল। তবে প্রার্থী, জেলা কংগ্রেস সভাপতি ধূর্জটিবিজয় মাঝি ভাতারের বাসিন্দা নন। সেই সূত্রেই ভাতারে ভোট-আলোচনায় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে কংগ্রেসের। দলের সাংগঠনিক ভিত শক্ত নয় মেনে নিয়েও কংগ্রেস নেতৃত্বের আশা, ভোলানাথ সেনের আমলে হওয়া উন্নয়নের কথা আজও স্মরণ করেন ভাতারের মানুষ। সেই স্মৃতি দলকে ভোট বৈতরণী পার করিয়ে দেবে। প্রার্থীর বক্তব্য, ‘‘দীর্ঘদিন কর্মচারী ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ভাতার ব্লকের বহু মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় রয়েছে। ভোলানাথ সেনের আদর্শকে মাথায় নিয়ে এই বিধানসভার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছব। আশা করি রাজ্যে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে বাংলার মানুষ কংগ্রেসের উপরে আস্থা রাখবেন।’’
প্রাক্তন ব্লক কংগ্রেস সভাপতি, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তপন সামন্ত বলেন, ‘‘ভাতার ব্লকের যেটুকু উন্নয়ন চোখে পড়ে, তার অধিকাংশই হয়েছিল কংগ্রেসের হাত ধরে। প্রয়াত রাজ্যের প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রী ভোলানাথ সেনের সময়ে ভাতারে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়। গড়ে ওঠে গ্রামীণ হাসপাতাল, দমকল কেন্দ্র, আবাসন-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র, যেগুলি আজও ভাতারের সম্পদ। তাই ভাতারে এত দিন কংগ্রেস প্রার্থী না দিলেও দলের সঙ্গে মানুষের নাড়ির টান রয়ে গিয়েছে।’’ ভাতার ব্লক কংগ্রেস সভাপতি টুটু মুন্সীর দাবি, ‘‘ভাতারের ভূমিপুত্র হিসেবেও এক জনের নাম দলের কাছে প্রার্থী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। দল জেলা সভাপতিকেই এখানে যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করেছে। এই বিধানসভায় প্রচুর কংগ্রেসপ্রেমী মানুষ রয়েছেন। প্রার্থীকে মর্যাদা দেবেন ভাতারের মানুষ। এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে