রাজ্যের মন্ত্রী হলেন কলিতা মাজি। ছবি: সংগৃহীত।
একসময়ে সংসারের হাত ধরতে বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করেছেন। একমাত্র পুত্রকে মানুষ করতে খেটেছেন দিনরাত। গুসকরার সেই কলিতা মাজি এ বার রাজ্যের মন্ত্রী। সোমবার লোক ভবনে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার বাকি ৩৫ জন সদস্য শপথ নেন। সেই তালিকায় ছিলেন আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা। রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন তিনি।
কলিতার স্বামী কলের মিস্ত্রি। তবে সংসারে বাড়তি কিছু উপার্জনের জন্য পরিচারিকার কাজ করতে হয়েছে কলিতাকে। এক পুত্র এবং স্বামী নিয়ে তাঁর সংসার। এ বছরই তাঁর পুত্র পার্থ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়। তবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা কলিতার অনেক দিনেরই। সেই সুযোগ চলে আসে বিজেপির হাত ধরে। বছর সাতেক রাজনীতি করার পরে ২০২১ সালে তাঁকে প্রথম বার বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করে বিজেপি। সে বার কলিতার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূলের অভেদানন্দ থান্ডার। ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন কলিতা। এ বারও তাঁর উপর ভরসা রেখেছিল বিজেপি। আউশগ্রাম থেকে টিকিট দেওয়া হয় কলিতাকে।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই ছিল কলিতার মূলচালিকা শক্তি। রাজনৈতিক লড়াইয়ে অর্থবল ও পেশিশক্তির মোকাবিলা করেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন তিনি। শেষপর্যন্ত আউশগ্রামের মানুষের রায়ে জয় পান কলিতা। তাঁর কথায়, ‘‘আমি গরিব পরিবারের একজন বধূ। তাই গরিব মানুষের কষ্ট বুঝি। বিধায়ক হয়েছি, এখন মন্ত্রীও হয়েছি, কিন্তু আমি সাধারণ মানুষ হিসেবেই থাকতে চাই। আমি আতিশয্য চাই না। আউশগ্রামের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’’
কলিতার এই উত্থানে খুশি গুসকরার মানুষেরাও। পাত্র পরিবারে এক সময়ে পরিচারিকার কাজ করতেন কলিতা। সেই পরিবারের সদস্যেরা জানান, ২০১১ সাল থেকে তাঁদের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন কলিতা। প্লাটিলাল পাত্র বলেন, ‘‘আগে আমাকে কাকা বলত। পরে আমাদের মেয়ে মারা যাওয়ার পর আমাকে বাবা বলে ডাকত। ও শুধু মেয়েই নয়, আমাদের অভিভাবকের মতো। ও মন্ত্রী হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। মানুষের পাশে থেকে ভাল কাজ করুক, এটাই চাই।’’ এই প্রথম আউশগ্রাম বিধানসভার কোন বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন।