ছবি: সংগৃহীত।
শরীরের যে মাঝের অংশ, অর্থাৎ বুকের নীচ থেকে নাভি পর্যন্ত, সে টুকুর গড়নই শরীরের আদল অনেকখানি ঠিক করে দেয়। অন্তত তেমনই মনে করেন বেশির ভাগ মানুষ। তাই যাঁরা ফিটনেস সচেতন বা সাজগোজ করতে ভালবাসেন, তাঁরা ওই অংশে মেদ জমার ব্যাপারে একটু বাড়তি সতর্ক থাকেন। আর পেশা যদি হয় গ্ল্যামারের দুনিয়ায়, তবে আর এক ধাপ এগিয়ে ফ্ল্যাট বেলি বা নির্মেদ পেট-এর জন্য চেষ্টা-চরিত্র করতে থাকেন নায়ক-নায়িকা-মডেল-অভিনেত্রীরা। কারণ, তাঁদের ধারণা, তাতে দেখতে বেশি সুন্দর লাগবে। কিন্তু সত্যিই কি মেদহীন পেট সৌন্দর্যের মাপকাঠি? উত্তর দিলেন বলিউডের অভিনেত্রী তাপসী পন্নু।
তাপসী জানিয়েছেন, তিনিও ওই একই লক্ষ্যের পিছনে ছুটতেন। পেটে বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ফেলার তাগিদে খাবার, শারীরচর্চা সর্বত্র মানতেন কঠোর নিয়ম। কারণ, তাঁর ধারণা ছিল পেটে মেদ বাড়লে তাঁকে দেখতে ভাল লাগবে না। যদিও জীবন এবং সময় তাপসীকে অন্য শিক্ষা দিয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে তাপসী লিখেছেন, ‘‘আমার মনে আছে, আমিও ফ্ল্যাট বেলি পাওয়ার জন্য মাথা খারাপ করে ফেলতাম। ছোট থেকেই আমি অত্যন্ত ফিট। শারীরচর্চা করতাম নিয়মিত। কিন্তু কেন জানি না পেটের কিছুটা বাড়তি চর্বি থেকেই যেত। কিছুতেই ওটা ঝরত না। হয়তো সে জন্যই যে ভাবে হোক ওই বাড়তি মেদ ঝরাতে চাইতাম। এতটাই যে, জিমে গিয়ে নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলতাম। ক্ষমতার বাইরে গিয়ে পরিশ্রম করেছি সেই সময়ে। অত্যাচারই করেছি বলা যায়। পরে বুঝলাম এ ভাবে মেদ কমানো সম্ভব নয়।’’
তাপসী জানিয়েছেন, শরীরে মেদ বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে শরীরের জল ধরে রাখার প্রবণতা। অনেক সময়েই শরীর অতিরিক্ত জল ধরে রাখে। যার ফলে শরীর ভারী লাগতে পারে এবং মেদবহুল বলে মনে হতে পারে। আর শরীর যখন বেশি পরিশ্রম করে, তখন আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসাবে তার জল জমিয়ে রাখার প্রবণতাও বাড়তে থাকে। আর এই জমে থাকা জলই ওজন কমতে দেয় না। ঝরতে দেয় না মেদ। তাপসী বলেছেন, তিনি ওই সত্য অনেক পরে উপলব্ধি করেছেন।
বহু বছরের অভিজ্ঞতার পরে তাপসী বলছেন, ‘‘এখন আমি বিশ্বাস করি, সৌন্দর্যের কোনও বাঁধাধরা সংজ্ঞা হয় না। তুমি অন্য কোনও মেয়ের মতো দেখতে হতে পারবে না। কারণ তুমি নিজের মতো করে সুন্দর।’’ অভিনেত্রীর মতে, এই সহজ সত্যিটা যত তাড়াতাড়ি বোঝা যায়, ততই মঙ্গল।