Bardhaman Town

শহর আধুনিক হবে, বরাদ্দ কই

রাজ্যে ২৫টি শহরকে আধুনিক করার প্রস্তাব নিয়েছে রাজ্য সরকার। তালিকায় রয়েছে বর্ধমান। বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আধুনিক শহর গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকার সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

সৌমেন দত্ত

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৭
Share:

বর্ধমান পুরসভা। — ফাইল চিত্র।

জেলার সদর শহর বর্ধমান। ১৬০ বছরের পুরনো ‘রাজার শহর’ আড়ে-বহরে বেড়ছে। শহরের দু’প্রান্তে দু’টি উপনগরী গড়ে উঠেছে। স্বপ্ন রয়েছে, পুরশহরকে পুর নিগমে উন্নীত করার। কিন্তু রাস্তা, আলো, নিকাশি ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবায় ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন পুরসভার ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ। তাঁদের অভিযোগ, বেআইনি নির্মাণে রাশ টানা যায়নি। রয়েছে যানজটও। বর্ধমান শহরকে আধুনিক করে গড়ে তোলার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে রাজ্য বাজেটে। যদিও অর্থ বরাদ্দ নেই। কাজেই শহর ‘আধুনিক’ আদৌ হবে কিনা, তা নিয়ে বাসিন্দাদের একাংশের মনে খটকা রয়েছে। প্রশ্ন তুুলেছে বিরোধীরাও।

রাজ্যে ২৫টি শহরকে আধুনিক করার প্রস্তাব নিয়েছে রাজ্য সরকার। তালিকায় রয়েছে বর্ধমান। বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আধুনিক শহর গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকার সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এই পরিকল্পনার ফলে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হবে, পরিবেশ ও কর্মসংস্থান-বান্ধব হবে। আধুনিক জীবনযাপনের সুযোগ সুবিধা থাকবে। সেখানে ডিজিটাল পরিকাঠামোর বড় ভূমিকা থাকবে। শহরবাসীর অসুবিধা না ঘটিয়ে কী ভাবে প্রকল্প রূপায়ণ সম্ভব, তা খতিয়ে দেখতে সরকার কমিটি গঠন করবে। কমিটি চলতি বছরের মধ্যে সমীক্ষা করে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট দেবে। তার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।

শহরবাসীর একাংশের অভিযোগ, শহরকে বাড়ানোর লক্ষ্যে নবাবহাট ও উল্লাসে দু’টি বাসস্ট্যান্ড হয়েছে। শহরের ভিতরে চার লেনের রাস্তা হয়েছে। বর্ধমান-কাটোয়া রোডের উপরে রেলের উড়ালপুল হয়েছে। আগের চেয়ে শহরে বসতি বেড়েছে। ফ্ল্যাট-সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। কিন্তু তিনকোনিয়া বাসস্ট্যান্ড উঠে যাওয়ায় মধ্য শহরে (বিশেষ করে বিসি রোড) ব্যবসা শুকিয়ে যাচ্ছে। বিসি রোড চওড়া করার নামে পুরসভা এক বছর ধরে ভাঙা রাস্তায় শহরবাসীকে যাতায়াত করতে কার্যত বাধ্য করছে। রাস্তার দু’দিকে হকার আর মোটরবাইকের বেআইনি পার্কিংয়ের কারণে যাতায়াত করতে গিয়ে বার বার ‘হোঁচট’ খেতে হচ্ছে নাগরিকদের। বিরোধীদের অভিযোগ, শহরের রাস্তার অবস্থা তথৈবচ। নিকাশি বেহাল। খুঁটিতে ‘এলইডি’ থাকলেও সব সময় জ্বলে না। ফলে শহরের বড় অংশ প্রতিদিন অন্ধকারে ডুবে থাকে।

বর্ধমানের অনেক পুর-প্রতিনিধিদের বক্তব্য, গত কয়েক বছর ধরে আম্রুত প্রকল্পে জল সরবারহের কাজ হয়েই চলেছে। সব এলাকায় সেই জল পৌঁছাচ্ছে কি না, তার সদুত্তর পুর কর্তৃপক্ষ দিতে পারেন না। এক পুর-প্রতিনিধির কথায়, “মাঝেমধ্যেই পুরবোর্ডের বৈঠকে চিৎকার চেঁচামেচি হয়। পুরপ্রধান মৌনী থাকেন।”

পুরপ্রধান পরেশ সরকার বলেন, ‘‘আধুনিক শহরে পরিকাঠামোও আধুনিক হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হবে। পানীয় জল, রাস্তা, নিকাশি নালা-সহ নানা পরিকাঠামোর উন্নতি হবে। জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হবে। বাড়বে কর্মসংস্থান।’’ বিধায়ক (বর্ধমান দক্ষিণ) খোকন দাসের কথায়, “বিসি রোড চওড়া করার কাজ চলছে। আগে কেউ যা ভাবেননি। মুখ্যমন্ত্রী বর্ধমানকে আধুনিক করতে চাইছেন। এর চেয়ে খুশির আর কী হতে পারে?”

বিরোধীদের দাবি, গত লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে শহরের ভোটাররা তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কংগ্রেসের নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, “ভোটের চমক। টাকা ছাড়া উন্নয়ন আর সোনার পাথর বাটি দুটোই সমার্থক।” বিজেপি নেতা সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, “ভোটের আগে বর্ধমান শহরের কথা মনে পড়ল?’’

শহর-নামা

বর্ধমান

আয়তন: ২৬.৩০ বর্গ কিমি

জনসংখ্যা (২০১১) : ৩১৪২৬৫ জন (পুরুষ ১৫৯,৯৩৬ জন, মহিলা ১৫৪,৩২৯ জন, ০-৬ বছর বয়সি ২৪,৫৮৭ জন)

সাক্ষরতার হার: ৮৮.৩১%

জনঘনত্ব: ১৩,১৯০ জন/বর্গকিমি

বস্তি: ১৪৪ বাড়ি

বহুতল: ৭০ হাজার

বাঁকায় সেতু: ১৩টি খেলার মাঠ: ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫টি

পার্ক: ছোট-বড় মিলিয়ে ১৬টি

স্টেডিয়াম: ৩টি

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন