দাশুর ‘ক্যানসার’-বক্তব্যে বিতর্ক

এক নেতার বক্তব্য, অন্য সংগঠন থেকে আসা লোকজন ‘ক্যানসারের রূপ’। পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূল জেলা সভাপতি ভি শিবদাসনের (দাশু) এই বক্তব্যের প্রকাশ্যেই বিরোধিতা করলেন আসানসোল পুরসভার মেয়র তথা তৃণমূল বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। 

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৮ ০৩:২০
Share:

এই সভাতেই চাপানউতোর। নিজস্ব চিত্র

এক নেতার বক্তব্য, অন্য সংগঠন থেকে আসা লোকজন ‘ক্যানসারের রূপ’। পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূল জেলা সভাপতি ভি শিবদাসনের (দাশু) এই বক্তব্যের প্রকাশ্যেই বিরোধিতা করলেন আসানসোল পুরসভার মেয়র তথা তৃণমূল বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। দুই নেতার এই বাকবিতণ্ডা হয় আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য সভানেত্রী দোলা সেনের সামনেই। এই পরিস্থিতিতে সভার কাজই শেষমেশ ভণ্ডুল হয়ে যায়।

Advertisement

তৃণমূলের ব্রিগে়ড সমাবেশের সমর্থনে রবিবার পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের জামবাদ খোলামুখ খনি চত্বরে সভার আয়োজন করে আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠন কেকেএসসি। তাতেই যোগ দেন ওই তিন নেতানেত্রী। ছিলেন, ওই সংগঠন এবং হিন্দ মজদুর সভার (এইচএমএস) হাজারখানেক সমর্থকও। সেখানেই ভি শিবদাসন অভিযোগ করেন, “এইচএমএস আমাদের দলে ক্যানসারের রূপ নিচ্ছে। অবিলম্বে তা রুখতে না পারলে এই ক্যানসার দলের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, নানা খনি এলাকায় কেকেএসসি-র পাল্টা সভা, মারামারি করছে এইচএমএসের সদস্যেরা। এর ফলে তৃণমূল প্রভাবিত শ্রমিকেরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। জেলা সভাপতির মুখে এই বক্তব্য শুনে তাঁকে সমর্থন জানাতে দেখা যায় কর্মী, সমর্থকদের একাংশকেও।

তখনই পরিস্থিতির সামাল দিতে আসরে নামেন দোলাদেবী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জেলা সভাপতির হাত থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ক্যানসার শব্দটা আমার কানে লাগল। এটা দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। জেলা সভাপতি হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে ভি শিবদাসনকেই।” এর পরে ফের তিনি মাইক তুলে দেন শিবদাসনকে।

Advertisement

কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। জেলা সভাপতি ফের ওই সংগঠনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতে থাকেন। এর পরেই প্রতিবাদ করেন জিতেন্দ্রবাবু। তিনি বলেন, ‘‘প্রকাশ্য সভায় বারবার কেন বিষয়টি তোলা হচ্ছে? অপমান করাটা লক্ষ্য হলে এইচএমএসের লোকজনকে এখানে ডাকা কেন হয়েছে?’’ সব দেখে জিতেন্দ্রবাবুর পাশে বসা দোলাদেবী জেলা সভাপতিকে ব্রিগেড সমাবেশের বিষয়ে বক্তব্য রাখার জন্য বলেন। সেই সঙ্গে জিতেন্দ্রবাবুর উদ্দেশেও তিনি বলেন, ‘‘তুমিও মাথা গরম করছ।’’ জিতেন্দ্রবাবুকে লক্ষ করে বলতে শিবদাসনকে শোনা যায়, ‘‘আমি সত্যি কথা বলেছি। এতে কারও ঝাল লাগলে আমার করার কিছু নেই।’’ এই পরিস্থিতিতে সভায় উপস্থিত কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে বিতণ্ডা বেঁধে যায়। তার পরেই সভা শেষ না করে মঞ্চ থেকে শিবদাসন নেমে যান। ভণ্ডুল হয়ে যায় সভার কাজ।

বিষয়টি নিয়ে পরে ভি শিবদাসন বা জিতেন্দ্র তিওয়ারি, কেউই কোনও প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি। তবে দোলাদেবী বলেন, ‘‘এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। দলেই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement